ইরাকে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমান নিয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পশ্চিম ইরাকের আকাশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বিশাল রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা সামরিক বিমান

2026-03-14T01:18:55+00:00
2026-03-14T01:18:55+00:00
 
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরাকে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমান নিয়ে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১:১৮ এএম 
ইরাকে বিধ্বস্ত মার্কিন বিমান। ছবি : বিবিসি
পশ্চিম ইরাকের আকাশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি বিশাল রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা সামরিক বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যই প্রাণ হারিয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানে থাকা ক্রুদের জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার মতো কোনো প্যারাসুট বা ইজেকশন সিট ছিল না।

বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল মার্কিন বিমান বাহিনীর কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার, যা মূলত মাঝ-আকাশে যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানে জ্বালানি সরবরাহের কাজ করে। এই ধরনের বিমানকে অনেক সময় ‘উড়ন্ত ফুয়েল স্টেশন’ বলা হয়, কারণ এগুলো যুদ্ধবিমানগুলোর দীর্ঘ সময় আকাশে থাকার সক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

মার্কিন বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কেসি-১৩৫ বা অনুরূপ বড় ট্যাঙ্কার বিমানে সাধারণত যুদ্ধবিমানের মতো ইজেকশন সিট বা প্যারাসুট থাকে না। এর কারণ হলো এসব বিমানকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র বা ঝুঁকিপূর্ণ আকাশসীমায় পাঠানো হয় না। বরং নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে সেখান থেকেই তারা অন্য বিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করে।
আরও পড়ুন

সামরিক কৌশল অনুযায়ী, কোনো সমস্যা দেখা দিলে ক্রুদের প্রধান দায়িত্ব হয় বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে অবতরণের চেষ্টা করা। তাই জরুরি অবস্থায় আকাশ থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগের পরিবর্তে নিরাপদ অবতরণের ওপরই প্রশিক্ষণ বেশি দেওয়া হয়।

তবে সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনায় সেই সুযোগও তৈরি হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আকাশে আরেকটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে কেসি-১৩৫ বিমানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে একটি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং ছয়জন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হন।

এদিকে সংঘর্ষে জড়িত দ্বিতীয় ট্যাঙ্কার বিমানটি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটি নিরাপদে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। বিমানটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে জানা গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন এবং প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। তারা স্পষ্টভাবে বলেছে, বিমানটি কোনো শত্রুপক্ষের হামলায় ভূপাতিত হয়নি।

তবে ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করেছে। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, ফলে মার্কিন বাহিনী এই দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে বিধ্বস্ত বিমানের লেজের অংশ অনুপস্থিত দেখা গেছে, যা মাঝ-আকাশে সংঘর্ষের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।

বিমানটির গায়ে থাকা চিহ্ন দেখে জানা গেছে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত বিল এয়ার ফোর্স বেসের ৯৪০তম এয়ার রিফুয়েলিং উইংয়ের অংশ ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন এবং নিহত ক্রুদের ‘আমেরিকান হিরো’ হিসেবে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

এএডি/
  বিষয়:   ইরাক  বিধ্বস্ত  মার্কিন  বিমান  চাঞ্চল্যকর  তথ্য 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: