পবিত্র রমজান পরকালের পুণ্য কেনাকাটার সময়। অথচ অনেক মানুষ পার্থিব জগতের কেনাকাটায় যেন সব ভুলেই যান। রমজানের শেষ দশকে নবীজি (সা.) ইবাদতের ময়দানে কোমর বেঁধে নামতেন। রাত জাগরণ করতেন। পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন, ইবাদত-বন্দেগির প্রতি উৎসাহ দিতেন (বুখারি : ২০২৪)।
রাসুলুল্লাহর রমজানের শেষ দশকের এই কর্মসূচিগুলো উম্মতের জন্য আদর্শ। উম্মত এই শেষ দশকের সময়গুলোকে ইবাদত-বন্দেগির প্রতি গুরুত্ব দেবে। আখেরাতের ব্যালেন্স সমৃদ্ধ করবে। হেলায়-খেলায় জীবন, সময় এবং আখেরাত বরবাদ করবে না।
কিন্তু আক্ষেপের বিষয়, অনেক মানুষ এই শেষ দশকেই নবীজি (সা.)-এর আদর্শ ভুলে যায়। ঈদ শপিং, ঈদ সদাইয়ের নামে খেলাধুলা, গল্পগুজব, আড্ডাবাজি এবং মোবাইল-ইন্টারনেটের অপব্যবহারে শেষ দশকের ফজিলতপূর্ণ মুহূর্তগুলো বরবাদ করে দেয়।
অথচ এই শেষ দশক হচ্ছে আখেরাতের শপিং, আখেরাতের সদাইয়ের মূল্যবান সময়। শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে রয়েছে পবিত্র এবং ফজিলতপূর্ণ লাইলাতুল কদরের সম্ভাবনাময় রাত। লাইলাতুল কদর, যা এক হাজার মাস থেকেও উত্তম। নবীজি (সা.) বলেছেন, লাইলাতুল কদরে যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে ইবাদতের মাধ্যমে রাত জাগরণ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার পূর্ববর্তী সব (সগিরা) গুনাহ মাফ করে দেবেন (বুখারি : ৩৫)।
এই রাতের শুরু থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালার রহমত এবং সৌভাগ্য মুমিনের দুয়ারে দুয়ারে করাঘাত করে। ওই ব্যক্তি সৌভাগ্যবান, যে তা লুফে নিতে পারে।
সময়ের আলো/কেএইচও