ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে পুলিশের গাড়িতে তেল ভরার নাম করে এক ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জুয়েল খান আখাউড়া সড়ক বাজারের ‘আরাধনা স্টোর’ এর স্বত্বাধিকারী।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর ভাষ্যমতে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলা শহর থেকে বাচ্চাদের খেলনা, চুড়ি, চশমাসহ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী কিনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে ফিরছিলেন। পথে আখাউড়া কুমারপাড়া রেলক্রসিং এলাকায় এসআই সুমন অটোরিকশাটি থামিয়ে মালামাল তল্লাশি করেন এবং ক্রয়ের রশিদ দেখতে চান। বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পরেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা ৫ হাজার টাকা দাবি করেন এবং তাকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখেন। এক পর্যায়ে এসআই সুমন সাফ জানিয়ে দেন যে, পুলিশের গাড়িতে তেল ভরার জন্য এই ৫ হাজার টাকা দিতে হবে।
বাধ্য হয়ে জুয়েল খান বিষয়টি তার চাচা ও আখাউড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার খানকে ফোনে জানান।
আক্তার খান ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকের কারণ জানতে চাইলে এসআই সুমন কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি, উল্টো তার কাছেও টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হবে বললে পুলিশ ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়।
আখাউড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জুয়েল একজন বৈধ ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও এসআই সুমন তাকে ছাড়েননি এবং তাকে টাকা জোগাড় করে দেওয়ার কথা বলেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানার ওসিকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের হয়রানি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল আলম।
তিনি জানান, পুলিশ রুটিন মাফিক মালামাল চেক করতেই পারে, কিন্তু টাকা চাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার ধারণা, মালামাল তল্লাশি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ব্যবসায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন।
সময়ের আলো/আরবিএন