মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে অন্যান্য দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এসময় প্রয়োজনে উপকূল জুড়ে ব্যাপক বোমা হামলারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দেশও যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে এবং প্রয়োজনে উপকূলে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হবে।
চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে এই নৌপথকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা রাখেন তিনি।
এদিকে, ইরান বলছে, প্রণালি বন্ধ করা হয়নি, তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে শত্রু দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
টানা ১৬ দিন ধরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। শিল্পনগরী ইসফাহানে যৌথ বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া যায়।
একইসঙ্গে নেতানিয়াহু বাহিনী দাবি করেছে, একই সময়ে তেহরানে আরেক হামলায় ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া জরুরি কমান্ডের গোয়েন্দা শাখার দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, আবদুল্লাহ জালালি-নাসাব ও আমির শরিয়াত নিহত হয়েছেন।
এর আগে, ওই ইউনিটের প্রধান সালেহ আসাদিও নিহত হয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে তেহরান। এদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ৫০তম ধাপের অভিযান চালানো হবে।
তবে সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। কুয়েতের আহমদ আল জাবের বিমানঘাঁটির কাছে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে, দেশটির বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়। একই সময়ে নিরাপত্তা সূত্র জানায়, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের টাইর ও তাইয়্যেবে এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের গোরেন এলাকায় রকেট নিক্ষেপ এবং একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতা আসলে অঞ্চলকে নিরাপদ করেনি, নতুন সংঘাত তৈরি করেছে।
তেহরান সতর্ক করে বলেছে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। একই সঙ্গে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও ফুজাইরাহ বন্দরের আশপাশ খালি করার সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
/ইউএমএইচ