প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৬ এএম
সংগৃহীত ছবিইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সরাসরি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে এবার হত্যার টার্গেট করেছে। তেহরান কেবল চরম আলটিমেটাম দিয়েই থেমে যায়নি; প্রথমবার ভয়ংকর ‘সাজ্জিল’ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে তারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলের পুলিশ সদর দপ্তর ও স্যাটেলাইট যোগাযোগকেন্দ্র।
এই ‘মৃত্যুর হুলিয়া’ যখন নেতানিয়াহুর মাথার ওপর ঠিক তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বমঞ্চে চরম মিত্রহীন হয়ে পড়েছে। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পাহারায় যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকুল আহ্বানেও বিন্দুমাত্র সাড়া দেয়নি কোনো পরাশক্তি।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, ‘ইরানের ওপর সন্ত্রাসী তকমা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ৯/১১-এর মতো একটি ভয়াবহ ঘটনা সাজানোর গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।’
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, ‘ধ্বংসাত্মক এই যুদ্ধ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে।’
যুদ্ধের ১৬তম দিনে ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় গেল ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার রাত থেকেই দেশটির বিভিন্ন শহরে একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইরান। অন্যদিকে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের পালটা হামলায় ইরানের ইসফাহান শহরে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত তিনটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।
পাশাপাশি কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, যেকোনো মুহূর্তে বড় হামলার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের দ্রুত সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিশানা করার অঙ্গীকার করেছে আইআরজিসি। রোববার সংস্থাটির নিজস্ব ওয়েবসাইট ‘সেপাহ নিউজ’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন আমাদের টার্গেট নেতানিয়াহু। আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাকে খুঁজে বের করব এবং হত্যা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।
অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, রোববার সকালে ইসরাইলের ‘লাহাভ ৪৩৩’ বিশেষ পুলিশ ইউনিট সদর দপ্তর এবং গিলাত প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগকেন্দ্রে নতুন মিসাইলে শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে। তবে এতে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য জানা যায়নি।
এছাড়া, এক জরুরি নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাই এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সময়ের আলো/কেএইচও