ইবাদতের রাতেও থেমে নেই সাতকানিয়ার মাটি খেকোরা

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

মুসলমানদের কাছে বছরের সবচেয়ে মহিমান্বিত ও ফজিলতপূর্ণ রাত পবিত্র শবে কদর। এই রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মসজিদে মসজিদে নামাজ,

2026-03-16T22:53:13+00:00
2026-03-16T22:53:13+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ইবাদতের রাতেও থেমে নেই সাতকানিয়ার মাটি খেকোরা
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম 
ছবির ক্যাপশন : অবৈধভাবে মাটি কাটতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এক্সকাভেটর। সংগৃহীত ছবি
মুসলমানদের কাছে বছরের সবচেয়ে মহিমান্বিত ও ফজিলতপূর্ণ রাত পবিত্র শবে কদর। এই রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মসজিদে মসজিদে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতে মগ্ন থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। 

কিন্তু এমন পবিত্র রাতেও থামেনি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কিছু এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার তৎপরতা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শবে কদরের রাতেও ফসলি জমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ডাম্পার ট্রাকে ইটভাটায় পাচার করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাত শুরু হতেই উপজেলার কেরানীহাটের উত্তরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে ফসলি জমির মাটি কেটে নিতে এক্সকাভেটর ও ডাম্পার ট্রাকের তৎপরতা দেখা গেছে। এশার আযান হলে মসজিদে ইবাদত করতে যাওয়ার সময় অনেক মুসল্লি সড়কে ডাম্পার ট্রাকের সারি দেখতে পান। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঢেমশা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, শবে কদরের রাতে মানুষ যখন ইবাদতে ব্যস্ত, তখনও তারা মাটি কাটছে। এটা খুবই দুঃখজনক। এই রাতের তো আলাদা মর্যাদা আছে।

স্থানীয়রা জানান, কেরানীহাটের পশ্চিমে অবস্থিত বিলসহ কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। শবে কদরের রাতেও সেখানে মাটি কাটার কাজ বন্ধ হয়নি।


নলু বিল এলাকার এক কৃষক বলেন, এই বিলে আগে ভালো ধান হতো। এখন মাটি কেটে বড় বড় গর্ত করে ফেলেছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে সব জমি বিশাল বিশাল জলাশয় হয়ে যাবে।

এক মুসল্লি বলেন, এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করতে যাওয়ার সময় দেখি রাস্তা দিয়ে একের পর এক ডাম্পার যাচ্ছে। শবে কদরের রাতেও তারা থামেনি।

সাতকানিয়ার এক আলেম বলেন, শবে কদর অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ রাত। এ রাতে মানুষ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। কিন্তু যদি কেউ অন্যের সম্পদের ক্ষতি করে বা অবৈধভাবে মাটি কেটে জমি নষ্ট করে, তা ইসলামেও গুরুতর অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, কোরআনে মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যের জমি নষ্ট করা বা অবৈধভাবে মাটি কাটা সেই অপরাধেরই অংশ।

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, ফসলি জমি থেকে এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে কৃষিজমি ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে খাদ্য উৎপাদন কমে যেতে পারে। এছাড়া বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়বে।

স্থানীয়রা বলছেন, শবে কদরের মতো পবিত্র রাতেও যদি অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ না হয়, তাহলে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে তা সহজেই বোঝা যায়।

তারা অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান।


সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   ইবাদত  সাতকানিয়া  মাটি  খেকো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: