মিরপুর জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সের বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে পুলের ডিজিটাল স্কোরবোর্ডটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে ডিজিটাল স্কোরবোর্ড কাজ না করায় এই পুলে সব ধরনের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে অ্যানালগ পদ্ধতিতে বা হ্যান্ড টাইমিংয়ে। স্কোরবোর্ডের পেছনে ৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। স্কোরবোর্ডের দাম কেন এত বেশি সেটা নিয়েও বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক জানান, বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করে আনা সরঞ্জাম কেন অকেজো পড়ে আছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
গতকাল (১৬ মার্চ) ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ‘একটি স্কোর বোর্ডের দাম ৫ কোটি টাকা হতে পারে না। যারাই করেছে, দুর্নীতির জন্য করেছে। আমার এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুর্নীতির শতভাগ লাগাম টেনে ধরার জন্য প্রস্তুত আছি।’
এ সময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রেফারিদের নিয়েও কথা বলেন। জানান রেফারি ও আম্পায়ারদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টরে, গেমসে কিন্তু রেফারির প্রয়োজন হয়। অথচ তারা ক্রীড়া পরিষদের আওতায় নেই। আমাদের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি, পরবর্তীতে সব রেফারিদের ক্রীড়া পরিষদের আওতায় এনে কীভাবে তাদের একটি কমিউনিকেশনের মাধ্যমে আরও বেশি ইনভলভমেন্ট বাড়াতে পারি, তাদের যে সুযোগ-সুবিধা দরকার সেগুলো আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ দিতে পারি, সে বিষয়গুলো নিয়ে একটি প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এটা এখনও ফাইনাল হয়নি।’
জাতীয় স্টেডিয়ামের আশপাশের পরিবেশ নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খুশি হতে পারেননি। তিনি জানান পরিবেশটা মোটেও ভালো নয়। জাতীয় স্টেডিয়ামের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করার কথা জানান তিনি।
আমিনুল বলেন, ‘আমাদের যে ঢাকা স্টেডিয়াম, সেই স্টেডিয়ামের যে পরিবেশ, সেই পরিবেশটি আসলে এখানে নেই। সেই পরিবেশ কীভাবে আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি সে বিষয়গুলো নিয়ে ইতিমধ্যে আমি আমাদের ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তা যারা রয়েছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সরেজমিন এখন দেখে গেলাম।’
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে আগামী ৩০ এপ্রিল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বিশেষ আয়োজনের সফল বাস্তবায়নে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততায় সময় পার করছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তারা।
এর প্রস্তুতি নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ৩০ এপ্রিল নতুন করে স্পোর্টসের কার্যক্রম আমাদের প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের যে কার্যক্রম সেটাকে বাস্তবায়ন করার জন্য, খেলাধুলাকে বাস্তবায়ন করার জন্য আমাদের প্রত্যেকটি জেলার ডিসি, ইউএনওর পাশাপাশি আমাদের জেলা ক্রীড়া অফিসার ও সচিবসহ অন্য সবার উপস্থিতিতে আমরা একটি মিটিং করেছি। সেই মিটিংয়ে কার কী করণীয় রয়েছে এবং এই নতুন করে স্পোর্টসকে বাস্তবায়নের জন্য কী কী করণীয় রয়েছে সব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি বিস্তারিতভাবে।’