চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ষোলোতে বাঁচা-মরার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ রাতে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগের লড়াইয়ে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে সিটিজেনরা। ফেদেরিকো ভালভার্দের অবিশ্বাস্য প্রথমার্ধের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত হওয়ার পর, ফিরতি লেগে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অলৌকিক কিছুর খোঁজে মাঠে নামবে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে এখন সিটিকে করতে হবে এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
প্রথম লেগের হারের পর গার্দিওলার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। মাদ্রিদের মাঠে তার দল নির্বাচন সবাইকে অবাক করেছিল। দুই মাস ইনজুরিতে থাকার পর সাভিনিওকে শুরুর একাদশে রাখা হলেও ফিল ফোডেন, ওমর মারমুশ ও রায়ান চেরকির মতো আক্রমণভাগের নিয়মিত তারকাদের রাখা হয়েছিল সাইড বেঞ্চে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দে থাকা ম্যাথুস নুনেজ ও রায়ান আইত-নুরিকে বাদ দেওয়া এবং নিকো ও’রিলিকে রক্ষণভাগের বাঁ-প্রান্তে খেলানোর সিদ্ধান্তও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যদিও গার্দিওলা তার দলের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন, তবে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে দ্বিতীয় লেগে তিনি চেনা ও শক্তিশালী একাদশেই ভরসা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিটির সাম্প্রতিক ফর্মও সমর্থকদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছে। বিশেষ করে আর্লিং হালান্ডের গোলখরা ভাবিয়ে তুলছে টিম ম্যানেজমেন্টকে; শেষ ১৭ ম্যাচে তিনি গোল করেছেন মাত্র ৪টি। ফোডেন, ডোকু বা চেরকিরাও চূড়ান্ত মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘোরাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ম্যানচেস্টার সিটির শিবিরে ইনজুরি সমস্যা খুব একটা নেই। জোসকো জিভার্দিওল এবং রিকো লুইস চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও মাতেও কোভাচিচ দলে ফিরেছেন। সিটির সম্ভাব্য একাদশে রক্ষণভাগে রুবেন ডিয়াস ও মার্ক গুয়েহির সঙ্গে ফিরতে পারেন ম্যাথুস নুনেজ ও রায়ান আইত-নুরি। মাঝমাঠে রদ্রি ও বার্নার্ডো সিলভার সঙ্গে নিকো ও’রিলিকে দেখা যেতে পারে।
বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদ বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়কে ছাড়াই মাঠে নামছে। কিলিয়ান এমবাপে এবং জুড বেলিংহাম ইনজুরির কারণে প্রথম লেগের মতো এই ম্যাচেও থাকছেন না।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আরেক ম্যাচে সিটির মতো আরেক ইংলিশ জায়ান্ট চেলসিও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখতেই মাঠে নামবে ফরাসি জায়ান্ট পিএসজির বিপক্ষে। পার্ক দে প্রিন্সেসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম লেগের লড়াইয়ে পিএসজির কাছে ৫-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রোজেনিয়রের শিষ্যদের। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্ন আরও জোরালো করে ফরাসি জায়ান্টরা।
অন্যদিকে বড় হারের গ্লানি নিয়ে ফিরতি লেগে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নামার আগে চেলসির পরিস্থিতি বেশ নাজুক। ইউরোপীয় কোনো প্রতিযোগিতায় ঘরের বাইরে প্রথম লেগে তিন বা ততোধিক গোলে পিছিয়ে থাকা চেলসির জন্য কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন এখন অনেকটা সুতোয় ঝুলছে। এর আগে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে রিয়াল জারাগোজার কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল ব্লুজরা।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছে চেলসি। নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচে রেফারির সঙ্গে চেলসি কোচ রোজেনিয়রের বাকবিতণ্ডা খবরের শিরোনাম হয়েছে।
গোলরক্ষক ফিলিপ ইয়র্গেনসেনের খেলা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে বেশ ফুরফুরে মেজাজে থাকা পিএসজি এই সপ্তাহের লিগ ম্যাচ থেকে ছুটি পাওয়ায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই লন্ডনে আসছে। ইনজুরির কারণে ফাবিয়ান রুইস ও তরুণ উইঙ্গার কোয়েন্টিন এনজান্টু ছাড়া পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নামবেন এনরিকে।