মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিশোধ, পাল্টা হামলা এবং কৌশলগত চাপ- সব মিলিয়ে অঞ্চলটি এখন এক অনিশ্চিত সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইরানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা ড. আলি লারিজানি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) সরাসরি প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) ইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহর তেলআবিব-সহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে শতাধিক সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এই হামলায় উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, বহুমুখী ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যদিও এসব দাবির স্বাধীন যাচাই এখনো নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।
সংঘাত শুধু একটি শহরে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আল-কুদস, হাইফা এবং বে’র শেভা-সহ বিভিন্ন কৌশলগত এলাকাও হামলার আওতায় এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব স্থানের মধ্যে সামরিক ঘাঁটি, প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং বন্দর অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন
এই সামরিক উত্তেজনার প্রভাব এখন আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আরও জোরালো হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের কিছু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, যা সংঘাত প্রশমনের পথকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানো এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। তবে নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক লড়াই নয়- বরং কৌশল, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক রাজনীতির এক জটিল সমীকরণে রূপ নিয়েছে, যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে।
এএডি/