মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ইরানি নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান ‘চূড়ান্ত প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানি সেনাপ্রধান আমির হাতামি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘উপযুক্ত সময়ে এবং স্থানে অপরাধী আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক জবাব দেওয়া হবে। লারিজানি এবং অন্যান্য শহীদদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।’
ইরান ইতোমধ্যেই মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তেল আবিবে অন্তত দুইজনের প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, রামাত গান ও বনেই ব্রাক এলাকায় স্প্লিন্টারের আঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে নেওয়া এক ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
ইরানের প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে ‘ডিপ পেনিট্রেটর’ বোমা ব্যবহার করেছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল। এই হামলা বিশ্ববাজারে তেলের দামও প্রভাবিত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অস্ট্রেলীয় সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, তবে কোনও সেনাসদস্য আহত হননি। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে বিস্ফোরণের খবরও পাওয়া গেছে। সৌদি আরব ও কুয়েতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা হয়েছে, জনসাধারণকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, লারিজানির হত্যা দেশের রাজনৈতিক কাঠামোকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা শক্তিশালী, এক ব্যক্তির অনুপস্থিতি বা উপস্থিতি এটি দুর্বল করতে পারে না।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের তীব্রতা সাময়িকভাবে কমার সম্ভাবনা কম। যুদ্ধের সম্প্রসারণশীল প্রকৃতি এবং প্রতিশোধমূলক হামলা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে রাজনৈতিক চাপ এবং শান্তি আলোচনার জন্য আরব দেশগুলো রিয়াদে বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ এবং তেল আবিবে নিহতদের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে একবারের জন্য স্থিতিশীল রাখতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনার পরিধি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও তেলের বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
এএডি/