ঈদের আয়ে স্বপ্ন পূরণ

নিবেদিতা দাস

ফিচার

ঈদুল ফিতর সামনে এলেই দেশের বিভিন্ন শপিংমল, পোশাক, গহনা ও জুতার আউটলেটগুলোতে শুরু হয় বাড়তি ব্যস্ততা। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে তখন

2026-03-18T15:32:13+00:00
2026-03-18T15:32:13+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
ফিচার
ঈদের আয়ে স্বপ্ন পূরণ
নিবেদিতা দাস
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩২ পিএম   (ভিজিট : ৭৯)
ঈদের আয়ে স্বপ্ন পূরণ। ছবি : সময়ের আলো
ঈদুল ফিতর সামনে এলেই দেশের বিভিন্ন শপিংমল, পোশাক, গহনা ও জুতার আউটলেটগুলোতে শুরু হয় বাড়তি ব্যস্ততা। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে তখন অনেক প্রতিষ্ঠান অস্থায়ীভাবে নতুন কর্মী নিয়োগ দেয়। এই সুযোগে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক তরুণী এক মাসের জন্য এসব আউটলেটে কাজ শুরু করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি এই মৌসুমি চাকরি তাদের জন্য হয়ে ওঠে অভিজ্ঞতা অর্জনের এক বাস্তব ক্ষেত্র, আবার অনেকের কাছে এটি ছোট ছোট স্বপ্নপূরণের পথও।

অনেক শিক্ষার্থীই মনে করেন, পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু সময় কাজ করলে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। তাই ঈদের মৌসুমে যখন বিভিন্ন আউটলেটে অস্থায়ী কর্মীর চাহিদা তৈরি হয়, তখন তারা আগ্রহ নিয়ে আবেদন করেন। কেউ বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন, কেউ আবার ক্যাশ কাউন্টার বা কাস্টমার সার্ভিসে দায়িত্ব পালন করেন। কাজের সময় দীর্ঘ হলেও নতুন পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে বেশ মূল্যবান।

রাজধানীর একটি শপিংমলে কাজ করা কলেজপড়ুয়া শৈশব শারমিন বৈশাখী বলেন, প্রথম দিন খুব নার্ভাস লাগছিল। এত মানুষ, এত প্রশ্ন- কীভাবে সামলাব বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে ভালোই লাগে।

অনেকেরই মতে, এই কাজ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। মানুষের সঙ্গে কথা বলা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা সমস্যার সমাধান করার মতো দক্ষতাও ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নীলিমা নাজনীন বলেন, ক্লাসে আমরা তত্ত্ব শিখি, কিন্তু এখানে এসে বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়। কাস্টমারকে সন্তুষ্ট করা, ধৈর্য ধরে কথা বলা- এসব বিষয় কাজ করতে করতেই শেখা যায়।
আরও পড়ুন

পড়াশোনা ও কাজ একসঙ্গে সামলানো অবশ্য সহজ নয়। দিনে কয়েক ঘণ্টা আউটলেটে দাঁড়িয়ে কাজ করার পর আবার বাড়ি ফিরে পড়াশোনা করতে হয়। অনেক সময় পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিতে হয় এই ব্যস্ততার মাঝেই। তাই সময় ব্যবস্থাপনা এখানে বড় একটি বিষয়। বেশিরভাগ তরুণীই দিনের নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে নেন- কখন কাজ করবেন, কখন পড়বেন, কখন বিশ্রাম নেবেন। এভাবেই তারা দুদিক সামলানোর চেষ্টা করেন।

একটি পোশাক আউটলেটে কাজ করা শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজ করি। রাতে বাড়ি ফিরে পড়াশোনা করি। একটু কষ্ট হয় কিন্তু মনে হয় এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

অনেকেই জানান, এই অস্থায়ী চাকরি তাদের জীবনের প্রথম কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা। আগে কখনো কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ না করলেও ঈদের এই মৌসুমি সুযোগ তাদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। দায়িত্বশীলতা, সময় মেনে চলা এবং দলগতভাবে কাজ করার মতো বিষয়গুলোও তারা এখানে শিখে নেন। এই কাজ থেকে পাওয়া আয়ের গুরুত্বও কম নয়। অনেক তরুণীই নিজের পড়াশোনার খরচে সহায়তা করার জন্য এই কাজ করেন। কেউ কোচিং ফি দেন, কেউ আবার বই কেনেন বা নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নেন। আবার কেউ কেউ পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটাও করেন এই উপার্জনের টাকায়।

ইউএসটিসির শিক্ষার্থী অঝরা চৌধুরী বলেন, এই এক মাসের কাজের টাকায় আমি নিজের কিছু খরচ চালাতে পারি। এবার ভাবছি মায়ের জন্য একটি শাড়ি কিনব। নিজের উপার্জনের টাকায় কিছু কিনতে পারাটা সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি।

ঈদের আয়ের সঙ্গে অনেক সময় জড়িয়ে থাকে ছোট ছোট স্বপ্নও। কেউ দীর্ঘদিন ধরে একটি মোবাইল ফোন কিনতে চাইছেন, কেউ নতুন একটি ব্যাগ বা ল্যাপটপের জন্য টাকা জমাচ্ছেন। আবার কেউ ভাবছেন এই টাকায় পরিবারের জন্য বিশেষ কোনো উপহার কিনবেন। এসব ছোট স্বপ্নই তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।

তবে এই কাজের চ্যালেঞ্জও আছে। ঈদের সময় শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় থাকে অনেক বেশি। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করা, কখনো কখনো কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে গ্রাহক সামলানো- এসব বিষয় সহজ নয়। তবু অধিকাংশ তরুণীই এটিকে অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবেই দেখেন।

একটি গহনার আউটলেটে কাজ করা নুসরাত শারমিন বলেন, ঈদের আগে ভিড় এত বেশি থাকে যে কখনো বসার সময়ও পাওয়া যায় না। তবু যখন দেখি ক্রেতারা হাসিমুখে সন্তুষ্ট হয়ে যাচ্ছেন, তখন ভালো লাগে।

বিভিন্ন আউটলেটের কর্তৃপক্ষও মনে করেন, শিক্ষার্থী তরুণীরা এই মৌসুমি কাজে বেশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। তাদের উৎসাহ ও আন্তরিকতা অনেক সময় ক্রেতাদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে।

সব মিলিয়ে ঈদের মৌসুমি চাকরি শুধু সাময়িক আয়ের সুযোগই নয়, অনেক তরুণীর জন্য এটি আত্মনির্ভরশীলতার প্রথম ধাপ। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন, নিজের খরচের কিছুটা দায়িত্ব নেওয়া এবং ছোট ছোট স্বপ্নপূরণের আনন্দ- সবকিছু মিলিয়েই এই সময়টা তাদের জীবনে হয়ে ওঠে বিশেষ এক অধ্যায়। ঈদের ব্যস্ত বাজারে ক্রেতাদের হাসিমুখে সেবা দেওয়া এসব তরুণীদের গল্প শুধু একটি মৌসুমি চাকরির গল্প নয়; এটি স্বপ্ন দেখা, পরিশ্রম করা এবং ধীরে ধীরে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পথচলা।

এএডি/


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: