আমি ভার্সিটির একজন ছাত্র। আগে দ্বীনের বুঝ না থাকায় নামাজ-রোজা ঠিকমতো আদায় করতাম না। এখন দ্বীনের বুঝ পেয়েছি। তাই পেছনের জীবনে ছেড়ে দেওয়া নামাজ-রোজা কাজা করা শুরু করেছি। তখন অনেক রমজানে এমন হতো যে, বাসার জোরাজুরির কারণে ভোররাতে সেহরি খেয়ে রোজা রাখতাম। পরে ভার্সিটিতে এসে ভেঙে ফেলতাম। এক আলেমের মুখে শুনেছি, এভাবে রোজা ভাঙলে শুধু কাজা করলে হয় না; বরং কাফফারা অর্থাৎ এক রোজার জন্য ৬০টি রোজা রাখতে হয়। জানার বিষয় হলো, আমি তো এভাবে অনেক রোজা ভেঙেছি। এখন আমি এত কাফফারা কীভাবে আদায় করব? আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম
উত্তর : প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি বিনা ওজরে যতগুলো রোজা ভেঙেছেন প্রত্যেকটির জন্য একটি করে কাজা আদায় করবেন। আর সবকটি রোজার জন্য একটি কাফফারার ৬০ রোজা আদায় করবেন। যেটি পেছনের সবগুলো রোজার জন্য যথেষ্ট হবে। প্রতিটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাফফারা আদায় করতে হবে না। প্রকাশ থাকে যে, বিনা ওজরে রোজা ভাঙা অনেক বড় অন্যায়।
পরবর্তীতে এর কাজা সম্ভব হলেও এর যথাযথ ক্ষতিপূরণ কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সফর অথবা অসুস্থতা ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবেই রমজানের কোনো রোজা ভঙ্গ করবে সে আজীবন রোজা রাখলেও এর সত্যিকারের বদলা হবে না (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ৯৮৯৩)।
তাই সতর্ক থাকতে হবে, যেন সামনে এমন না হয়। আর পেছনের ভুলের জন্য কাজা-কাফফারার পাশাপাশি তাওবা-ইসতিগফার করে নিতে হবে। (কিতাবুল আসল : ২/১৫৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২৬০)
সময়ের আলো/কেএইচও