যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মেটাতে ইরানের কিছু তেল পরিবহন ও বিক্রির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে এরইমধ্যে জাহাজে তোলা হয়েছে এমন ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। এই অনুমতির ফলে ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা ইরানের অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত খালাস ও বিক্রি করা যাবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। বরং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের শিকার ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে অর্থ আয়ের মাধ্যমে তহবিল গঠনের সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই মনে করেন তারা।
শুক্রবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এ অনুমতি শুধুমাত্র বর্তমানে জাহাজে বোঝাই থাকা ইরানে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এছাড়া এ অনুমোদন আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলেও জানিয়েছে মার্কিন অর্থ দফতর।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের সংকট মোকাবিলায় ইরানের তেল পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি আমরা। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি উৎপাদনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে।
সময়ের আলো/জেডআই