পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন দিন শেষে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, ঠিক তখনই এক গভীর রাতে শুরু হয় এক গৃহবধূর প্রসব বেদনা। রাত তখন প্রায় ৩টা। ঈদের ছুটির কারণে চিকিৎসক বা সেবা পাওয়া যাবে কিনা—এমন অনিশ্চয়তা আর দিশেহারা পরিস্থিতির মধ্যে আশার আলো হয়ে দাঁড়ালো মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন বিথী আক্তার। আর ঈদের ছুটির মধ্যেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার।
বিথী আক্তারের স্বামী মিলন মুন্সী জানান, ঈদের রাত হওয়ায় চিকিৎসক বা নার্স পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দ্রুত ও যথাযথ সেবা পেয়েছি।
স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তিনি বলেন, বর্তমানে নবজাতক ও তার মা দুজনই সুস্থ আছেন—এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
কাদিরপুর মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ফাতেমা সুলতানা সাথী বলেন, ছুটির দিনেও জরুরি সেবা দিতে পেরে তারা আনন্দিত।
উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গোলজার জানান, সময় বা পরিস্থিতি যাই হোক, একজন মায়ের নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। মা ও শিশুর সুস্থতা তাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মতিউর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ঈদের ছুটিতে সাধারণত অনেক সেবা সীমিত থাকলেও গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের কথা বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দায়িত্ববোধ থেকেই তারা এ কাজ করে যাচ্ছেন।
এফআর