বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় আবারও স্থল মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শফি আলম (৩০) নামে এক স্থানীয় যুবক মারা গেছেন।
বুধবার (২৫ জুন) বিকেল আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে ঘুমধুম সীমান্ত সড়কের ১৬ কিলোমিটার এলাকায় কাশেম রাজার ঢালার মুখসংলগ্ন একটি কলা বাগানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত শফি আলম ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী ছড়া এলাকার বাসিন্দা কালু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কাশেম রাজার ঢালার মুখ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি কলা বাগানের ভেতরের চলাচল পথে হাঁটার সময় শফি আলম স্থল মাইনের বিস্ফোরণের শিকার হন। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের স্থান থেকে অদূরে একটি প্রস্তাবিত বিজিবি বিওপির নির্মাণকাজে কয়েকজন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে শফি আলমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পরে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাকে কাঁধে করে সীমান্ত সড়কে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি যানবাহনে করে বাইশফাঁড়ী প্রধান সড়কে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে তার মা একটি টমটম (মিশুক) যোগে তাকে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান।
পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সীমান্তবর্তী একটি কলা বাগানে স্থল মাইন বিস্ফোরণে শফি আলম নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, ‘সীমান্তের পাহাড়ি এলাকার একটি কলা বাগানে স্থল মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’
সময়ের আলো/এসএকে