চলতি এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নওগাঁর পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি নন-এমপিওভুক্ত। ফলাফলে পাঁচ প্রতিষ্ঠানেই শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এমন ফলাফল নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে আলোচনা ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, সাপাহার উপজেলার ভাবুক নইমুদ্দিন সরকার দাখিল মাদ্রাসা, পত্নীতলা উপজেলার চকনোদবাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, নিয়ামতপুর উপজেলার পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা।
সাপাহারের ভাবুক নইমুদ্দিন সরকার দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫ জন শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মাদ্রাসার সুপার আতাউল্লাহ বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অনেক পরিবার অসচ্ছল হয়ে পড়েছিল। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি তৈরি হয়। এর প্রভাবেই এমন ফলাফল হতে পারে।
সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল কবীর বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হবে।
পত্নীতলার চকনোদবাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষকদের অনিয়ম ও যথাযথ তদারকির অভাবে শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যস্ত হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
পত্নীতলা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোরশেদুল আলম বলেন, মাদ্রাসাটির কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
এদিকে নিয়ামতপুর উপজেলার তিন প্রতিষ্ঠানেও কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এগুলো হলো— নন-এমপিওভুক্ত পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নন-এমপিওভুক্ত নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজ এবং বরিয়া দাখিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠান তিনটি থেকে যথাক্রমে নয়, সাত ও ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
পৈলানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হলেও নবম-দশম শ্রেণি এমপিওভুক্ত নয়। ওই দুই শ্রেণিতে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চায় না। ফলে পাঠদানও ব্যাহত হয়েছে।
নিমদিঘী কারিগরি স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজনুর রহমান মণ্ডল বলেন, ২০১১ সালে ভোকেশনাল শাখা চালু হলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। শাখাটিতে কোনো শিক্ষক নেই। কলেজ শাখার শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নিতে হয়। ফলে ফলাফল খারাপ হয়েছে।
বরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুল মান্নান বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসে না। আগামীতে তাদের ক্লাসমুখী করে ভালো ফলাফলের চেষ্টা করা হবে।
নিয়ামতপুর ইউএনও মোসা. মুর্শিদা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারের পদ শূন্য থাকায় যথাযথ তদারকি সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি একাডেমিক সুপারভাইজার যোগ দিয়েছেন। এখন মনিটরিং বাড়ানো হবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে শূন্য পাসের তালিকায় না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।
সময়ের আলো/এসএকে