তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

সারাদেশ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতি ঘণ্টায় কয়েকবার করে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে।

2026-08-11T23:39:06+00:00
2026-08-11T23:39:06+00:00
 
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম 
বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ছবি : সংগৃহীত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রতি ঘণ্টায় কয়েকবার করে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ কখন আসবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও নিয়মিত কোনো পূর্বঘোষণা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। 

এদিকে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বাজারের দোকানগুলোতে এসি-ডিসি লাইটের চাহিদা বেড়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চার্জার ফ্যানের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে। 

গোয়ালন্দ আবাসিক বিদ্যুৎ এলাকার আওতায় দৌলতদিয়া, উজানচর, দেবগ্রাম, ছোট ভাকলা, গোয়ালন্দ পৌরসভা ও খানখানাপুর এলাকার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের গ্রাহকরা রয়েছেন। 

স্থানীয় গ্রাহকদের আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের জনবল সংকটের কারণে সেবা পেতে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। 

অভিযোগ করেও দ্রুত সমস্যার সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ টাকা ছাড়া সেবা পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আবার এদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়েও গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও তারা হাজার হাজার টাকার বিল পাচ্ছেন। এতে নিম্নআয়ের মানুষকে বিল সংশোধনের জন্য বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বারবার যোগাযোগ করতে হচ্ছে।

গোয়ালন্দ মোড় ব্যবসায়ী পরিষদের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘নামাজ ও আজানের সময়ও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আলী আহমেদ বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও কৃষিকাজেও সমস্যা হচ্ছে। কবে নাগাদ এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।’ 

খানখানাপুর এর গাজীপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, কারেন্ট ঠিক মতো থাকে না। দুই ঘন্টা কারন্টে থাকলে পরের এক ঘন্টা থাকে না। এভাবে থাকলে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। আমাদের ছেলে মেয়েরা রাতে ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারছে না। আর ফ্রিজে থাকা সব জিনিস কারেন্ট না থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে এর সমাধান চাই।


অন্যদিকে, দৌলতদিয়া ক্যানাল ঘাট এলাকায় সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের একটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা হলেও এখনো চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধার বা জড়িতদের গ্রেফতারের বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

গোয়ালন্দ আবাসিক বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। তবে গত প্রায় ২ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে গড়ে প্রায় ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোয়ালন্দ আবাসিক এলাকায় বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র একজন লাইনম্যান দায়িত্ব পালন করছেন। জনবল সংকটের কারণে সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।’

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   তীব্র লোডশেডিং  অতিষ্ঠ  জনজীবন  ভোগান্তি  সাধারণ মানুষ 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: