নড়াইল সদর উপজেলার দুটি দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী দাখিল মাদ্রাসায় ১৭ জন শিক্ষকের বিপরীতে ১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানটি শেখহাটি ইউনিয়নের জরাজীর্ণ আফরা দাখিল মাদ্রাসা।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, এবার নড়াইল জেলা থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৮ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০৪ জন। জেলার ১৮৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু এই দুটি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পেড়লী দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, পাঠদান কার্যক্রম চলছে। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৯৩ সালে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ২৫০ শিক্ষার্থী ও ১৭ শিক্ষক রয়েছেন। ২০২৪ সালেও প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ছিল শতভাগ।
চলতি বছরের ফল বিপর্যয় নিয়ে মাদ্রাসার সুপার আশরাফুল জামান বলেন, ‘অন্যান্য বছর ফল ভালো হলেও এবার খুবই খারাপ হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে অনেক ভালো শিক্ষার্থীও রয়েছে। আমরা অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ে যৌথ সমাবেশ করব। যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফলে সন্দেহ আছে, তাদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন করা হবে। এরপরই প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে।’
তবে এই ফল মেনে নিতে নারাজ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। প্রাথমিক সমাপনীতে বৃত্তি পাওয়া ও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে প্রথম হওয়া অকৃতকার্য শিক্ষার্থী তুষ্মি খানম বলে, ‘আমি পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছি, সবসময় ক্লাসে রোল এক থাকে। অন্যান্য বিষয়ে আমার জিপিএ-৫ পাওয়ার মতো ফল। ইংরেজি পরীক্ষাও অনেক ভালো দিয়েছিলাম, কিন্তু কেন ফেল দেখানো হলো বুঝতে পারছি না। খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করব, আশা করি ফল পরিবর্তন হবে।’
অভিভাবক রুমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। পরীক্ষা দিয়ে এসে বলেছিল পরীক্ষা ভালো হয়েছে। কিন্তু তাকে ইংরেজিতে ফেল দেখানো হয়েছে, শুধু তাকে নয়, মাদ্রাসার সব শিক্ষার্থীকেই ফেল করানো হয়েছে। এটি কীভাবে সম্ভব?’
উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে, সেখানে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল না। মাদ্রাসাটির সুপার আতিকুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসলেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এটি এখন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘নড়াইল থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দুটি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি। আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে মতবিনিময় করছি। যেসব প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি, আমরা সেখানে সরেজমিনে যাব। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে আগামীতে যেন ফলাফলের উন্নতি হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সময়ের আলো/কেএইচও