কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খামা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুনের উদ্যোগে সোমবার সকাল ৮টায় উপজেলার গোলডুবা-খামা সংযোগ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। খননকাজ চলাকালে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে কাজে বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস ও পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সম্পাদক আজিজুল হাকিম মীর জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে খন্দকার আল আশরাফ মামুনের নেতৃত্বে তারা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন। এসময় এমপি জালাল উদ্দিনের পক্ষের উপজেলা বিএনপির সদস্য আবুল কালাম মেম্বার, এগারসিন্দুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীন ডাক্তার, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল, ইউনিয়ন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দিদার, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি খুরশীদ উদ্দিন, ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকের নেতৃত্বে আমাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া হয়েছে।
খাল খনন কর্মসূচির উদ্যোক্তা খন্দকার আল আশরাফ মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খাল খনন একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়নের সময় বিএনপির নামধারী কিছু ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, এতে তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হন।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি খুরশীদ উদ্দিন ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল আলম বলেন, এই খালটি পরিকল্পিত ও সরকারিভাবে খনন করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছি। কিন্তু একটি পক্ষ সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের জমি বাঁচাতে মামুনকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছে। তারা মূলত খালের গভীরতা কমিয়ে নামমাত্র পরিষ্কার করে ‘ফটো সেশন’ ও প্রচারণার জন্য এই কাজ করছে।
তিনি দাবি করে বলেন, আমরা কোনো হামলা করতে যাইনি, বরং কী হচ্ছে তা দেখতে গিয়েছিলাম। উল্টো তারাই আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, এক পক্ষ খাল পরিষ্কার করতে এলে অন্য পক্ষ বাধা দেয়—এ থেকেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, খাল পরিষ্কার কর্মসূচি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আপাতত কর্মসূচি চলমান থাকতে পারে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এখানে আমার কোনো লোকজন নাই। আর সেখানে কোনো খাল খনন নয়, সম্ভবত খাল পরিষ্কার করা হচ্ছিল। এই পরিষ্কার বা খনন কর্মসূচির বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনও কিছু জানে না, আমিও অবগত নই।
এফআর