ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই সোমবার এই অভিযোগকে “ইসরায়েলের সাজানো ভুয়া হামলা” বা ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বলে দাবি করেন।
বাঘাই বলেন, ইসরায়েলের এমন অভিযোগ আসলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যাটো মহাসচিবও এই হামলায় ইরানের সম্পৃক্ততার দাবি নিশ্চিত করেননি, যা এসব অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গণমাধ্যম, যেমন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, জানিয়েছিল যে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তবে সেগুলো ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ইরান এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকত, তাহলে তা একটি বড় সামরিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দিত। কারণ এতে বোঝা যেত, তাদের কাছে ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা সহজেই লন্ডনসহ দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে। তবে ইরান আগে থেকেই দাবি করে আসছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে, যাতে অন্য দেশগুলোর কাছে হুমকি হিসেবে বিবেচিত না হয়।
এদিকে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, তাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই যে ইরান সরাসরি ব্রিটেনকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছে বা সেই সক্ষমতা ব্যবহার করতে চায়।
দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র, যেখানে প্রায় আড়াই হাজার সেনা অবস্থান করছে, যাদের বেশিরভাগই মার্কিন। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরাক, আফগানিস্তান এবং ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একদিকে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে ইরান তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা “ভুয়া প্রচারণা”র অভিযোগ আনছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
/ইউএমএইচ