সিলেটে ইব্রাহিম মাস্তান ওরফে ইবইশা’র মাজারে গানবাজনা ও অশ্লীল নৃত্য বন্ধকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে স্থানীয় জামে মসজিদে ভাঙচুর এবং মুয়াজ্জিনকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত ব্যবসায়ী কাচা মিয়া বলেন, উচ্চশব্দে গানবাজনা ও অশ্লীল নৃত্য বন্ধের প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জেরে তাকে মারধর করা হয় এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাজারের খাদেম মো. দুদু মিয়া মসজিদে ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ওরুস আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু রাতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রোববার শ্রীপুর গ্রামের ইব্রাহিম মাস্তান ওরফে ‘ইবইশা’র মাজারে প্রতিবছরের মতো তিনদিনব্যাপী ওরুস শুরু। তবে রাত প্রায় ১২টার দিকে মাজারে আয়োজিত গানের আসরে উচ্চশব্দে মাইক ব্যবহার ও নৃত্য নিয়ে আপত্তি তুলে স্থানীয়দের একটি অংশ, সেখানে গিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। এতে ওরুস কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
এরই জেরে সোমবার ভোরে মাজার সংশ্লিষ্ট লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সংগঠিত হয়ে স্থানীয় কয়েকজনের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা নেছার আহমদ ও মাওলানা আবুল বাশারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে হামলাকারীরা কাচা মিয়াকে মারধর করে আহত করে এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তারা স্থানীয় জামে মসজিদের দিকে গেলে সেখানে মুয়াজ্জিন মুহিবুর রহমান মাশকুরকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে মসজিদের তিনটি থাই গ্লাসের জানালা ভাঙচুর করে।
খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, অনুমতির শর্ত ভঙ্গ এবং ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে।
বর্তমানে এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
সময়ের আলো/জোই