জমে উঠেছে কালী মেলা। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগরে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রায়ের ঐতিহাসিক শেখরনগর কালি মন্দিরের শ্রী শ্রী মা রক্ষা কালী পূজা। এই উপলক্ষে মেলায় লাখ মানুষের ঢল।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল পর্যন্ত শেখরনগর ইউনিয়নে ইছামতি নদীর প্রাঙ্গণে কয়েকটি গ্রাম নিয়ে এই মেলা বসেছে। শেখরনগর ঋষি সমিতির উদ্যোগে বাংলা ৯০১ সন হতে এ পূজা উদযাপিত হয়ে আসছে।
কালীপূজাকে সামনে রেখে সিরাজদিখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ৫৩২ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই উৎসবের আগমন উপলক্ষে নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
কালীপূজাকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজন হলেও এখন আর কেবলই হিন্দু সম্প্রদায়ের মেলা হিসেবে আবদ্ধ থাকে না। রূপ নেয় এক সর্বজনীন উৎসবে। মেলা চলে ৪ দিনেররও বেশি। মেলায় দেশ বিদেশের অনেক ভক্তবৃন্দ আসে। এখানে ভারত, নেপাল থেকেও দর্শনার্থীরা ভিড় জমায়।
শেখরনগর কালি মন্দিরের যুব সমাজের সভাপতি দিপঙ্কর দাস বলেন, কালি পূজা ও মেলায় লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে পূজা এবং বুধবার ভোর ৫টা থেকে কালি মন্দিরে পাঠাবলি ঘিরে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেকেই মানত করা পাঠা, কবুতর নিয়ে আসছেন এখানে বলি দিতে।
কালি মন্দি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী ধীরেন চন্দ্র দাস জানান, বুধবার ভোর ৫টা থেকে চলছে পাঠাবলি। প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি পাঠাবলি হয়। এই মেলাটি সিরাজদিখানের ঐতিহ্যবাহী মেলা ৫৩২ বছরেরও বেশি সময় থেকে শুরু হয়ে আজও চলমান।
মেলায় শিশুদের জন্য নাগর দোলা, হর্স রেস, রেলওয়ের ভ্রমণ ব্যবস্থাও রয়েছে। মেলাতে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থলীর কাজের লোহার তৈরি দা, কোড়াল, বঁটি, কাচি, হাসুয়া, কোদাল ও পাতি, বাঁশের তেরি চালন, কোলো-ডালা ইদ্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন মিষ্টি সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। কসমেট্রিকস সামগ্রীসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পসরা সাজিয়েছে।
কালি মন্দি কমিটির সভাপতি শ্রী রতন চন্দ্র দাস বলেন, সনাতন (হিন্দু) ধর্মীয় উৎসব হলেও সব সম্প্রদায়ের মানুষ আসেন এই মেলায়। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুরা আসে। মেলাকে ঘিরে দোকানিরা তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন।
কালীপূজা উপলক্ষে শেখরনগর মন্দির, শ্মশানঘাট এলাকায় সারারাত চলে ভক্তদের দেহতত্ত্ব, সামা সংঙ্গীত, ভক্তিগীতি গান।
সিরাজদিখান থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হান্নান সুমন জানান, কালী পূজার মেলাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ৪ শতাধিক আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে ১০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন পাশে আছে বলে জানান তিনি।
সময়ের আলো/জোই