একাত্তরের ২১ মে ঝালকাঠি সদর উপজেলার শশাঙ্ক (আলীপুর) গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায় পাকিস্তানি হানাদাররা। ওই দিন বাড়ির নিজ কাছারিঘরে গুলি করে হত্যা করা হয় মেছেল উদ্দিন হাওলাদার, চান্দে আলী মোল্লা, শাহাজউদ্দিন হাওলাদার এবং পাশের বাড়ির আবেদ আলি হাওলাদারকে।
সেদিনকার গোলাগুলি দেখে শাহাজ উদ্দিনের ছেলে সোবহান হাওলাদার প্রাণভয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে বাড়ির বেড়ের (নালা) পাশে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এই শোকাবহ ঘটনার মাত্র দুদিন পর ২৩ মে মেছেল উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে আবদুল মন্নান হাওলাদারকেও (বি.কম) পাশের রমানাথপুর এলাকার মসজিদ থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত আবদুল মন্নানের ভাই আব্দুর রব হাওলাদার জানান, তার ভাই সে সময় চামটা মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। বর্তমানে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা মেছেল উদ্দিন ও ছেলে আবদুল মন্নানের কবরের নামফলক পাশাপাশি লাগানো। সেখানে তাদের মৃত্যুর তারিখ লেখা আছে যথাক্রমে ২১ ও ২৩ মে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই দিন হাওলাদার বাড়ির কাছারিঘর থেকে চারজনসহ মোট আটজনকে এবং ২৩ মে রমানাথপুরের বিভিন্ন বাড়ি থেকে অজ্ঞাতসহ আরও সাত থেকে আটজনকে হত্যা করা হয়।
কাছারিঘরে হত্যার ঘটনার পরপরই পাশের বাড়ির আব্দুল কাদের এবং দৌড়ে পালানো নবম শ্রেণির ছাত্র দেলোয়ার হোসেনকেও গুলি করে মারা হয়।
শহীদ আবেদ আলীর ছেলে আবদুল ওয়াহেদ নিজ বাড়ির একই কবরস্থানে তার বাবা আবেদ আলী ও শহীদ আব্দুল কাদেরের কবর দেখিয়ে এই নৃশংসতার সাক্ষ্য দেন।
কাছারিঘর ও সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত এই গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী শহীদ শাহাজ উদ্দিনের ভাতিজি পারুল বেগম।
তিনি শশাঙ্ক এলাকার একটি গোরস্থানে তার চাচা শাহাজ উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শহীদ সোবহানের কবর শনাক্ত করে দেখান।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিব জানান, সেদিনের ওই হত্যাযজ্ঞে মনসুর নামে আরও একজন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
তথ্য সহায়তা : মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ইসমাইল মুসাফির।