‘ওরে বলেছিলাম ২৯ মার্চ আমার ডিউটি আছে, তোমরা বাড়ি থাকো। বউ শুনলো না। বললো— আব্দুল্লাহর বাপ তোমারে না দেখলে আমার ভালো লাগে না। আমি বাড়ি থাকমু না। তোমারে না দেখলে আমার অস্থির লাগে। এখন আমার কী হবে, আমি কেমনে বাঁচমু!’
বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীর উত্তাল ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে এভাবেই বুক ফাটা আর্তনাদ করছিলেন আব্দুল আজিজুল। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর যাত্রী ছিলেন তিনি।
বাসটি যখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়, আজিজুল কোনোমতে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও তার স্ত্রী ও শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার প্রায় কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পদ্মা নদীর অন্তত ৩০ ফুট গভীরে বাসটির সন্ধান পেয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, পানির নিচে তীব্র স্রোত এবং অন্ধকারের কারণে উদ্ধার কাজ করতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হচ্ছে। বাসের ভেতরে আরও অনেক যাত্রী আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে ফেরা যাত্রীদের ভাষ্যমতে, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বর্তমানে গোয়ালন্দ ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা ফায়ার স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরও দুটি বিশেষজ্ঞ ডুবুরি ইউনিট দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ-র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহযোগিতায় বাসটি উপরে তোলার চেষ্টা চলছে।
নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা আব্দুল আজিজুলের মতো আরও অনেক স্বজনের আহাজারিতে দৌলতদিয়া ঘাটের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সবার এখন একটাই অপেক্ষা— ৩০ ফুট গভীর থেকে আপনজনদের অন্তত শেষবারের মতো ফিরে পাওয়া।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেছে। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে আমাদের ডুবুরি দল এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।
এফআর