ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিখ্যাত ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা মাজিদ মাজিদি বিশ্বব্যাপী মুক্ত বিবেক জেগে ওঠার জন্য এক বার্তা দিয়েছেন। বার্তায় তিনি বলেন, এই লড়াইয়ের রণাঙ্গন কেবল সামরিক ময়দানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিস্তৃত হয়েছে অসহায় মানুষের ঘরবাড়ি, হাসপাতাল এবং সেইসব শিশুদের বিদ্যালয় পর্যন্ত, যাদের আশা ছাড়া আর কোনো আশ্রয় নেই।
ঢাকায় অবস্থিত ইরান কালচারাল সেন্টার বুধবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিশিষ্ট শিল্পী ও বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মাজিদ মাজিদি এক বার্তায় বলেন, আজ মহান ইরান বিশ্বের সব নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষ থেকে শিশু হত্যাকারী ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ করছে। আজকের যুদ্ধ সত্য ও অসত্যের মধ্যে এক সংগ্রাম। এই লড়াইয়ের রণাঙ্গন কেবল সামরিক ময়দানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিস্তৃত হয়েছে অসহায় মানুষের ঘরবাড়ি, হাসপাতাল এবং সেই শিশুদের বিদ্যালয় পর্যন্ত, যাদের আশা ছাড়া আর কোনো আশ্রয় নেই।
সব ধরনের সহিংসতা ও চাপ সত্ত্বেও, ইরানের জনগণ দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে; এই পথের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের থেকে শুরু করে নিষ্পাপ স্কুলপড়ুয়া শিশুদের পর্যন্ত সবাই এমন এক জাতির প্রতিরোধের কাহিনির অংশ, যারা চাপের মুখে মাথা নত করেনি। বিশ্বের বড় শক্তিগুলো তাদের সব ক্ষমতা নিয়ে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলাতে এবং এই অঞ্চলের সম্পদ ও ধনসম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে, তাদের আধিপত্য বিস্তার করতে। তবে এই দিনগুলোতে, ইরানের জনগণ ও যোদ্ধাদের প্রতিরোধ দেখিয়েছে যে, একটি জাতির ইচ্ছাশক্তি সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে পারে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে যে, দৃঢ় সংকল্প, ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে একটি জাতি কীভাবে বৈশ্বিক বিশাল চাপের মুখেও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
ইরানের বিশিষ্ট শিল্পী ও বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মাজিদ মাজিদি আরও বলেন, এই কারণে বিশ্বের চিন্তাবিদ, মুক্তমনা মানুষ, লেখক ও শিল্পীদের দায়িত্ব হলো মানুষের কষ্টের সামনে নীরব না থাকা এবং তাদের কলম, চিন্তা ও শিল্পের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়বিচার ও মানব মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানো। আজ অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমি নিশ্চিত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বহু মানুষের হৃদয় ইরানের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে; কেননা এই জাতির দাবি স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
আজ হলো জাগরণের দিন, বিশ্বব্যাপী মুক্ত বিবেকের জেগে ওঠার দিন; এমন এক দিন, যেদিন স্বাধীনচেতা মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং মানব মর্যাদার পক্ষে কথা বলে।
সময়ের আলো/আআ