আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা নাকচ করে দিয়েছে তেহরান।
বুধবার গভীর রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যৎ সংঘাত রোধ করতে ইরান কেবল নিজেদের শর্তেই এই যুদ্ধের সমাপ্তি চায়। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কেবল বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
ওই সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, আমরা আমাদের নিজস্ব শর্তে যুদ্ধের সমাপ্তি চাই... এমনভাবে যেন এর পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে।
তিনি আরও যোগ করেন, ওয়াশিংটনের সাথে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই এবং বর্তমানে তাদের মূল নীতি হলো প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা।
আরাগচি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই মুহূর্তে কোনো আলোচনায় বসার প্রয়োজন অনুভব করছে না। তার মতে, এখন আলোচনার টেবিলে বসার অর্থ হলো পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া।
ইরান যদি শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনায় না আসে তবে দেশটির ওপর নরক নামিয়ে আনা হবে—হোয়াইট হাউসের এমন হুমকির পরেই আরাগচির এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এল। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এর আগে জানিয়েছিলেন, আলোচনা চলছে এবং তা ফলপ্রসূ হচ্ছে।
পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো একটি ১৫ দফার প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন যে, খবরের মধ্যে সত্যতা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, এ ধরণের কিছু ধারণা বা প্রস্তাব শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কেবল বার্তা আদান-প্রদান করাকে কোনোভাবেই প্রকৃত আলোচনা বা দরকষাকষি বলা যায় না।
আরাগচি আরও দাবি করে, এই যুদ্ধের মাধ্যমেই ইরান তার নিজস্ব প্রতিরোধ সক্ষমতা তৈরি করেছে। তেহরানকে উসকানি দেওয়া হলে তার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ নয়—এটি কেবল শত্রুদের জন্য বন্ধ। তিনি জানান, বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর জাহাজ যাতায়াতের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পথ নিশ্চিত করেছে।
/এমএইচআর