গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুব জামায়াতের এক নেতার বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে নয়টার দিকে পলাশবাড়ী যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক থানায় প্রবেশ করেন। তারা একটি বিবদমান দোকান তালাবদ্ধ করার জন্য ওসি সারোয়ার আলমকে চাপ দেন। তবে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে হওয়ায় ওসি এতে সাড়া দেননি।
এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন গাইবান্ধা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রশিদুল বারী। তিনি বলেন, ওসি সাহেবকে মারধর করা হয়। পরে থানার ভেতরে দায়িত্বরত অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
পুলিশ আরও জানায়, হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করলে তাদের আটকাতে গেলে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রুহুল আমিনও হামলার শিকার হন। এতে থানার ভেতরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই থানায় যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে অভিযুক্তদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত অবস্থান জানাতে পারেননি জামায়াত নেতারা। তারা বলছেন, ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে যদি দলের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তৌহিদুল ইসলাম কানন নামে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ঘটনার সময় ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে সাংবাদিকদের পুলিশ জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে তা দেখানো হবে।
পলাশবাড়ী থানায় হামলার এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সময়ের আলো/জোই