হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ভাঙন ও চার দফা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোপা আমন, আউশ ধান ও শাকসবজি মিলে তিনটি ইউনিয়নে মোট ৮ কোটি ৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এতে লস্করপুর, পইল ও তেঘরিয়া ইউনিয়নের মোট ১ হাজার ৪৫০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে আমন, আউশ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, লস্করপুর ইউনিয়নে রোপা আমনের ৮৭ হেক্টর, আউশ ধানের ৩০ হেক্টর এবং শাকসবজির ২৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নটিতে আংশিকভাবে আউশ ধানের আরও ৮৫ হেক্টর জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
পইল ইউনিয়নে রোপা আমনের ২৩ হেক্টর ও আউশ ধানের ১০ হেক্টর জমি এবং তেঘরিয়া ইউনিয়নে রোপা আমনের ২৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের হিসাবেও লস্করপুর ইউনিয়নেই সবচেয়ে বেশি। এ ইউনিয়নে রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে ৫২২ জন কৃষকের, আউশ ধানের ক্ষতি হয়েছে ৩৩০ জনের এবং শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে ২৫০ জন কৃষকের।
পইল ইউনিয়নে রোপা আমনের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১৩৮ জন এবং আউশ ধানে ৬০ জন। অপরদিকে তেঘরিয়া ইউনিয়নে রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে ১৫০ জন কৃষকের।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, পরপর চার দফা খোয়াই নদীর পানিতে প্লাবিত হওয়ায় তাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষকের জমিতে একাধিকবার পানি প্রবেশ করায় কষ্ট করে আবাদ করা ধান ও সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাংক এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের বোঝায় পড়েছেন কৃষকরা।
আব্দাখাই এরাকার কৃষক তৌহিদ মিয়া জানান, এক এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শসা ক্ষেত করেছি। মাত্র ফুল ফুটতে শুরু করেছে শসা বাগানে। এমন সময় নদী ভাঙনের পানি এসে সব শেষ করে দিয়েছে। আশা করেছিলাম শসা বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করব।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে