কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু হয়েছে। অসময়ে নদীতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ক্রসবাঁধের ৪০ মিটার ইতিমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়েছে গেছে। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়।
এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে ভাঙনকবলিত এলাকায় যান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) লোকজন। তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে।
সরেজমিন কথা হয় তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের সঙ্গে। এ সময় তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নদীর ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
আর কোনোভাবে যদি বাঁধ ভেঙে যায় তা হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। বাঁধ ভাঙলে খেসারত দিতে হবে রাজারহাটের বড়দারগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা এবং ডাংরারহাট— এই ছয়টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষকে। তারা সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়বেন।
পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাস, মুরগিসহ ঘরে পালন করা বিভিন্ন প্রাণির জীবনও বিপন্ন হতে পারে। শুধু তাই নয়, হুমকির মুখে পড়বে বসতভিটা, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং অন্তত পাঁচটি স্থানীয় বাজার।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে মঙ্গলবার হঠাৎ করেই ভাঙন দেখা দেয়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি আমরা সার্বক্ষণিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর থেকে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের রাস্তার কিছু অংশে হঠাৎ করেই ভাঙন শুরু হয়। পরে ওই ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে রাস্তার উত্তর এবং দক্ষিণ পাশে। নদীর স্রোত তীব্র থাকায় বাঁধের নিচের অংশের মাটি এবং বালু সরে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে বলেও জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সরেজমিন কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন, ছামাদ মিয়াসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে। এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, গতকাল আমরা দেখেছি নদীর স্রোত অনেক বেশি ছিল। গত বছরের মতো এবারও ভাঙনের লক্ষণ দেখেছিলাম। আশঙ্কার কথা অনেককে জানিয়েছি। কিন্তু তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
বুড়িরহাট এলাকার আরেক বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম (৪০) বলেন, ‘শুকনা মৌসুমে এখানে বালু ছিল। একটা জায়গা অল্প ডেবে গিয়েছিল। তখন কাজ করা হয়নি। এখন পানি বেড়েছে, বালু নেই— কীভাবে ভাঙন সামলাবে?’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে