যাত্রীরা রক্তাক্ত পাথরের ঢিলে

সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম

সারাদেশ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেনে মাসে অন্তত ৫০টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। পর্যটন শহরে আনন্দের যাত্রা অনেকের কাছে এখন আতঙ্কের যাত্রা। পাথরের

2026-09-03T02:20:43+00:00
2026-09-03T02:20:43+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ
যাত্রীরা রক্তাক্ত পাথরের ঢিলে
সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২০ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেনে মাসে অন্তত ৫০টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। পর্যটন শহরে আনন্দের যাত্রা অনেকের কাছে এখন আতঙ্কের যাত্রা। পাথরের আঘাতে ফাটছে যাত্রীর মাথা। গুরুতর আঘাতে ক্ষতি হয়েছে চোখ। কারও দাঁত ভেঙেছে মুহূর্তে। হাত ও মুখে গুরুতর জখম হয়েছে বহু যাত্রী। 

সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে চকরিয়া এলাকায় পাথরে এক কিশোরের ৩টি দাঁত ভেঙে যায়। প্রায় প্রতিটি আঘাতের ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে যাত্রীদের। পাথর অপরাধীরা থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ আছে, কক্সবাজার যেতে বাস/কোচ নির্ভরতা কমেছে। ট্রেনেই বেশি যাত্রী। যাত্রী কমায় বাস মালিকরা হতাশ। মালিক সমিতিরই একটি চক্র পাথর নিক্ষেপে জড়িত এমন সন্দেহ অনেকের। এ কাজে ব্যবহার করছে কিশোর গ্যাংকে। 

Advertisement
তবে বাস মালিক সমিতির নেতারা এ ধরনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তারা বলছেন, বাসের যাত্রী কমেছে ঠিক। তবে কোনো অপরাধে তারা সম্পৃক্ত নন। এদিকে প্রাণঘাতী পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধে তৎপর হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রচারে নেমেছেন রেলওয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা। ৩১ আগস্ট গ্যাংকার ট্রেনে চেপে দিনভর প্রচার চালান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের পথে পথে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করেন। দিয়েছেন পাথর অপরাধী ধরতে পাঁচ হাজার টাকার পুরস্কারের ঘোষণা। 

ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করা হয়। ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ। এই রেলপথের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কক্সবাজার রেল যোগাযোগের আওতায় আসে। বর্তমানে এই পথে কক্সবাজার এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস, সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেসসহ চার জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। মহানগর এক্সপ্রেস নামে আরও একটি ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা আছে। ইঞ্জিন সংকটসহ নানা কারণে এই ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। ট্রেনটির চলাচল এখনও ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। তবে ট্রেনটি কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ থেমে নেই বলে জানান রেলওয়ের কর্মকর্তারা। 

রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন পরিচালনা লাভজনক। যাত্রীর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রেনের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে। একসময় কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলের জন্য ‘অফ সিজন’ ছিল। তখন হোটেলগুলো থাকত পর্যটকশূন্য। শুধু ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার কারণে এখন ‘অফ সিজন’ বলতে কিছু নেই। বর্ষার দিনেও পর্যটকের ভিড় লেগে থাকে কক্সবাজারে। 

রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া সময়ের আলোকে বলেন, পাথর নিক্ষেপের ঘটনা একবারে শুরু থেকেই ছিল। হয়তো ইদানীং বেড়েছে। আমরা সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছি। সোমবারও গ্যাংকার ট্রেনে করে প্রচার চালানো হয়েছে। 

কারা পাথর মারছে বা সংঘবদ্ধ কোনো দলের তথ্য পেয়েছেন কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, কেউ না কেউ পাথর নিক্ষেপ করছে। কারা পাথর নিক্ষেপ করে তা বের করা দায়িত্ব রেল পুলিশের। আমরা তাদের কাছে তথ্য জানিয়েছি।

রেলওয়ের কক্সবাজার স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন সময়ের আলোকে বলেন, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত সপ্তাহে সৈকত এক্সপ্রেস ট্রেন চকরিয়ার ডুলাহাজার অতিক্রমের সময় এক পরিবারের ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরের প্রতি পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছিল। পাথরে ছেলেটির তিনটি দাঁত মুহূর্তেই ভেঙে যায়। ট্রেনটি কক্সবাজার স্টেশনে পৌঁছার পর আমি হুইল চেয়ারে করে তাকে রিসিভ করি। এরপর অটোতে তুলে দ্রুত নিয়ে যাই হাসপাতালে। এভাবে প্রতিটি ট্রেনেই প্রতিদিন কম-বেশি পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

কারা করছে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমার মনে হয় পরিবহন সেক্টরের কেউ এই কাজে যুক্ত আছে। ট্রেনে বেশি যাত্রী পরিবহন হচ্ছে। যাত্রীদের বেশি আগ্রহ ট্রেন। সড়কপথে বাস-কোচে যাত্রী পরিবহন কম হচ্ছে। এই ধারণা থেকে হয়তো বাস মালিকদের কেউ পাথর নিক্ষেপের কাজে যুক্ত হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তা চিহ্নিত হতে পারে।

প্রতিটি ট্রেনেই কি পাথর নিক্ষেপ করা হয় এ প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। প্রতি মাসে গড় হিসাব করলে অন্তত ৫০টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 

কোথায় কারা পাথর মারছে

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার কিংবা কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম রেলপথে আছে বিপজ্জনক অংশ। অর্থাৎ সেখানে চলন্ত ট্রেনে বেশি পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এরমধ্যে চকরিয়া উপজেলা থেকে রাম উপজেলা পর্যন্ত অংশ বিপজ্জনক। পুরো এলাকাটির বিভিন্ন অংশে পাহাড়ের পাদদেশ কিংবা পাহাড়ের ভেতর দিয়ে গেছে রেলপথ। সবচেয়ে বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে রেলপথের এই অংশে। পাশাপাশি পটিয়া থেকে লোহাগাড়া সাতকানিয়া অংশেও নিয়মিত পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। 
রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনেকের ধারণা সংঘবদ্ধ চক্র ট্রেনে পাথর মারছে। অনেকেই বলছেন কিশোর গ্যাং বা দুষ্ট ছেলেরা পাথর নিক্ষেপে জড়িত। আবার অনেকেই বলেছেন, বাস-কোচে যাত্রী কমে গেছে। তাই পরিবহন সেক্টরের কেউ পাথর নিক্ষেপে জড়িত।

তবে পাথর নিক্ষেপের কোনো ঘটনার সঙ্গে পরিবহন সেক্টরের কেউ জড়িত নেই বলে দাবি করেছেন কক্সবাজার বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আবদুল মালেক। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, মালিক সমিতির কেউ পাথর নিক্ষেপে কাউকে প্ররোচিত করে না। তারা কাউকে নিযুক্তও করেনি। ট্রেন জাতীয় সম্পদ। ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে যাত্রীদের আহত করার কোনো তৎপরতায় আমরা জড়িত নই। তবে তিনি স্বীকার করেছেন ট্রেন চলাচল শুরুর পর কক্সবাজারে বাসে করে যাত্রী পরিবহন কমে গেছে। এতে তারা লসের মুখে। 

চলতি বছরের ৮ মাসে আহত অনেকে

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের চেয়ে বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ। পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ১৬০ বার ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। সবচেয়ে বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার রুটে। 

গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছিল। এর মধ্যে মোহাম্মদ হিমেল আহমেদ (২৫) নামে এক যাত্রীর চারটি দাঁত ভেঙে গেছে। আহত অন্য যাত্রী মোহাম্মদ আবু সাঈদ (৪০) ঘাড়ে আঘাত পেয়েছেন।  

আহত দুই যাত্রী নন-এসি কোচের (ঢ বগি) ৩৫-৩৬ নম্বর আসনে বসা ছিলেন। চকরিয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় বাইরে থেকে একটি পাথর ছুড়ে মারা হয়। এতে তারা আহত হন। পরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

আক্রান্ত বগির যাত্রী সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পর ট্রেনের গার্ড ও অ্যাটেনডেন্টের সাহায্য চাওয়া হয়। স্থানীয় পুলিশকে জানানো হলে তারা উল্টো জানালা খোলা রাখা নিয়ে যাত্রীদের প্রশ্ন করেন।


গত ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে চকরিয়ার ডুলাহাজারার কাছাকাছি এলাকায় ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে এক যাত্রী আহত হন।  প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটে কক্সবাজার স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। চকরিয়ার ইসলামাবাদ এলাকা অতিক্রম করে ডুলাহাজারার কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ পাথর নিক্ষেপ করা হয়। পাথরের তীব্র আঘাতে ট্রেনের নন-এসি কোচের ‘ঝ’ বগির জানালার কাচ ভেঙে যায়। এতে ১১ নম্বর আসনে বসা যাত্রী বিপ্লব কুমার দাশের হাত কেটে যায়। একই বগিতে থাকা দীপ্ত নামের অপর এক যাত্রীর হাতেও চোট লাগে। আহত বিপ্লব কুমার কক্সবাজার জেলা জজ কোর্টে কর্মরত। তাকে ট্রেনের ভেতরেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

আহত যাত্রীর কাছাকাছি আসনের যাত্রী তাওহীদ মুরাদ বলেন,  আমি জানালা বন্ধ করে ল্যাপটপে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে কাচ ভেঙে তার গায়ে এসে পড়ে। তিনি বেঁচে গেলেও পাশে থাকা যাত্রীর হাত কেটে যায়। 

গত ২২ আগস্ট বিকালে লোহাগাড়া উপজেলা অংশের রেলপথ অতিক্রম করছিল ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস। হঠাৎ প্রচণ্ড গতিতে পাথর নিক্ষেপে আহত হন এক বগির যাত্রী শাহীন আহমেদ (৩৯)। যাত্রীর মাথা ফেটে বের হতে থাকে রক্ত। রক্ত বন্ধ করতে ট্রেনের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ডাক্তার যাত্রীর সন্ধান করা হয়। ঘোষণার পর যাত্রী ডাক্তার সাড়া দেন। অন্য বগি থেকে এসে তিনি আহত শাহিনের চিকিৎসা শুরু করেন। মাঝপথে ট্রেন থামিয়ে ওই যাত্রীকে বোয়ালখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।  

মাত্র এক সপ্তাহ আগে চকরিয়ার ডুলাহাজার অংশে পাথর নিক্ষেপে মারাত্মত আহত হন ১৬ বছরের এক কিশোর। পাথরের আঘাতে কিশোরের তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। সৈকত এক্সপ্রেসের ওই যাত্রীকে কক্সবাজারে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। এসব উল্লেখযোগ্য বড় ঘটনা ছাড়াও পাথরে ছোটখাটো আঘাতের ঘটনা হরহামেশা ঘটছে। নিয়ন্ত্রণে বাস্তব কোনো উদ্যোগ নেই।

গ্যাংকার ট্রেনে প্রচার, পুরস্কার ঘোষণা

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় উদ্বিগ্ন রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশি তৎপরতা, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) তৎপরতা চললেও থামছে না পাথর নিক্ষেপ। রেলওয়ের মতে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ড। এসব প্রতিরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে বিশেষ জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়েছে।  রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত হয় প্রচার। গেল ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত গ্যাংকার ট্রেনে করে এ প্রচার চলে। 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, সম্প্রতি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর পর কয়েকটি এলাকায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা যেমন হুমকির মুখে পড়ছে। তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেলওয়ের সম্পদ। এ ধরনের অপরাধ বন্ধ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রচারকালে রেলওয়ের কর্মকর্তা ও আরএনবি সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে থেমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। পাশাপাশি রেললাইনের পাশের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থানীয়দের নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন রুটে। এখানে এ ধরনের ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে। এরই মধ্যে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে যাত্রী বা রেলকর্মীর গুরুতর আহত হন। আইন অনুযায়ী এটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সহযোগিতা করার এবং পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে দ্রুত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পাথর নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত করে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করলে রেলওয়ের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

৩১ আগস্টের প্রচারে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) চট্টগ্রামের সহকারী কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ সালামত উল্লাহ, সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা এটিএম আতাউল গনি, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) মো. ওমর ফারুক, আইডব্লিউ ষোলশহর কামরুল ইসলাম, ষোলশহর স্টেশন মাস্টার আরিফুল ইসলাম, কক্সবাজারের পিডব্লিউসহ রেলওয়ের কর্মকর্তারা।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   যাত্রী  রক্তাক্ত  পাথর  চট্টগ্রাম  কক্সবাজার  রেলপথ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: