যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ছাদের প্লাস্টার, খসে পড়ছে বিমের ইট-সুরকি। আর এই চরম প্রাণঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন ক্লাসে বসছে পাঁচ শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী। কোনো বিকল্প ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রতিদিন মৃত্যুর আশঙ্কা বুকে চেপে পাঠদান চালাচ্ছেন শিক্ষকরাও।
এমন চিত্র দেখা গেছে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিলা মাদরাসার একমাত্র দ্বিতল ভবনটি। এই মাদরাসায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা এয়াকুব আলী হান্নান বলেন, মাদরাসার একমাত্র দ্বিতল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। বর্ষায় প্রতিদিন পানি চুইয়ে পড়ে। মাদরাসায় নতুন ভবন প্রয়োজন। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
সরেজমিন দেখা গেছে, ছাদ খসে পলেস্তারা পড়ে গেছে। ভবনের খুঁটি (পিলার) ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ে রড দেখা যায়। ভবনটির বারান্দা ও চারপাশের অবস্থা খুবই নাজুক। বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ে। সবখানে পলেস্তারা খসে পড়ছে।
মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী আলিসা আক্তার জিনুক বলেন, আমরা প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করি। ভবনের অবস্থা দেখে ভয় লাগে। পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারি না। যার প্রভাব পরীক্ষায় পড়ে। ছাদ ও পিলারের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ে আমাদের বই খাতা ভিজে যায়।
নবম শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা আক্তার রিংকু বলেন, ক্লাস করার সময় অনেক সময় মনে হয় ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়তে পারে। এতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই। বিদ্যালয়ে নিরাপদ ভবন দেওয়ার দাবি করি।
জানা যায়, ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৪৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক, শিক্ষিকা ও ৫ জন কর্মচারী রয়েছে। একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ দ্বিতল ভবন ও টিনশেড ভবন রয়েছে।
এই ব্যাপারে সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম মোল্লা ও সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে গিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ভবনটির বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তারা মাদরাসায় নতুন ভবনের দাবি করেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে