বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি নিয়ে আসা জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে তেহরান। ঢাকার পক্ষ থেকেও চিঠির জবাবে তালিকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশের একটি সংবাদমাধ্যম।
গণমাধ্যমটি দাবি করেছে, বুধবার (২৫ মার্চ) জ্বালানি বিভাগ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এপ্রিল মাসে বাংলাদেশগামী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুবিধার্থে ছয়টি জাহাজের একটি বিস্তারিত তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সরবরাহ করেছে।
ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়ে বাংলাদেশগামী জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজগুলোর সর্বশেষ তথ্য জানতে চাওয়ার একদিন পরই এই তালিকা দেওয়া হয়েছে।
চিঠির জবাবে, জ্বালানি বিভাগ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী প্রায় ৫ লাখ টন এলএনজি এবং প্রায় ৭৯ হাজার টন অপরিশোধিত তেল বহনকারী ছয়টি জাহাজের বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই নৌপথ ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে।
তেহরানের এই চিঠি আসে বাংলাদেশের আগের কূটনৈতিক উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে ঢাকা নিজস্ব জ্বালানি আমদানির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইরানের সহায়তা চেয়েছিল।
জ্বালানিবাহী জাহাজের যাত্রা নিরাপদ করতে বাংলাদেশের এই উদ্যোগ ও ইরানের প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষাপট বুঝতে ওই গণমাধ্যমটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অবশ্য সংবাদমাধ্যমটির দাবি, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রাথমিক চিঠি এবং ইরানের জবাবি যোগাযোগ—উভয়ের কপিই সংগ্রহ করেছে।
বাংলাদেশের এই অনুরোধ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
/এমএইচআর