গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) একাধিক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা যুব জামায়াতের এক নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এক সংবাদকর্মীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে ওসি সরোয়ারে আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া তৌহিদুল ইসলাম কানন স্থানীয় একটি পত্রিকার পলাশবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার সময় তিনি থানায় উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাকে আটক করা হলেও পরে এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগপত্রসহ থানায় যান। সেখানে ওসির সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহমুদুল হাসান পলাশ একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ওসিকে চাপ দেন। কিন্তু বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে জানিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওসি। তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত নেতা ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ওসির ওপর চড়াও হন।
একপর্যায়ে থানার ভেতরেই ওসিকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পুলিশের। এ সময় উপস্থিত অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তারাও হামলার শিকার হন। পরে আহত পুলিশ সদস্যরা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশিদুল বারী বলেন, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ফুটেজ পর্যালোচনার কাজ চলছে। এটি প্রকাশের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত অবস্থান জানাতে পারেননি জামায়াতের নেতারা। পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কারা জড়িত তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যদি দলের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানার ভেতরে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।
সময়ের আলো/জোই