নাটোরর বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়াড়ি খেজুরতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি পাওয়ার গ্রিড সাবস্টেশনে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ৩০-৩৫ জনের একটি ডাকাতদল সাবস্টেশনে প্রবেশ করে এই লুটপাট চালায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং রহস্যজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, বনপাড়া-নাটোর মহাসড়কের পাশে খেজুরতলা এলাকায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেংথেনিং প্রকল্পের আওতায় ১৩২/৩৩ কেভি বনপাড়া গ্রিড সাবস্টেশনের নির্মাণ কাজ চলছিল, যা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ওই সাবস্টেশনে রাতে চারজন সিকিউরিটি গার্ড দায়িত্বে ছিলেন।
ঘটনার সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি ট্রাক সাবস্টেশনে প্রবেশ করে। শুরুতে গার্ডরা ধারণা করেন, এটি কোম্পানির মালামাল বহনকারী যান। তবে ট্রাকটি ভেতরে ঢোকার পর সেখান থেকে ডাকাত দলের সদস্যরা নেমে ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও দাসহ দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গার্ডদের জিম্মি করে। পরে তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে একটি কক্ষে বেঁধে রাখা হয়।
এরপর ডাকাতরা স্টোররুমের তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হেক্সাগন বিডি টেক লিমিটেডের সুপারভাইজার ফজলে রাব্বি জানান, ডাকাতরা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৩৯০টি ব্যাটারি, প্রায় ২ হাজার মিটার তামার তার, ৮টি বৈদ্যুতিক পাখা, ১০০ মিটার কন্ট্রোল ক্যাবল এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণকারী কম্পিউটারের দুটি হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। লুট হওয়া এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার শেখ আবদুল্লাহ জানান, ভোর ৫টার দিকে সিকিউরিটি গার্ডরা নিজেদের বাঁধন খুলে পাশের একটি দোকানে গিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদেরকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছালাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এটি ডাকাতি, চুরি নাকি অন্য কোনো রহস্য রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ডদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আশা করছি, দ্রুতই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।