গত ঈদের আগে ও পরে বাজারে বেশ কিছু ভোগ্যপণ্যের মূল্যে বড় রকমের হেরফের হয়েছে। পুরো রমজান মাসে অনেকগুলো সবজির দাম বেড়ে গেলেও ঈদের আগ দিয়ে কমে আসে। ঠিক তার উল্টো চিত্র মুরগির বাজারে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বাজারে মুরগির দাম কেজিতে ১০০ টাকারও বেশি বেড়েছে।
এ ছাড়া ঈদের ঠিক দুই দিন আগে থেকে গরুর মাংসের দাম বেড়ে ৯০০ টাকা কেজিতে ঠেকেছিল। এখন কিছুটা কমে এলেও প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়। আবার ঈদের ছুটিতে পেঁয়াজের দামও কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
এদিকে ভোজ্য তেলের বাজারে আবারও নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ রীতিমতো বন্ধ রেখেছে। এ কারণে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরেও এক লিটার বা দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে পারছে না। সংকটের সুযোগে মুদি দোকানদাররা খোলা সয়াবিন তেল বোতলে ভরে বেশি দামে বিক্রি করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করায় ব্যবসায়ীরা সরবাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে এখন সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৫-২০০ টাকা (বোতল) এবং খোলা তেল ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগেও প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায়। অথচ এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকায়। এ ছাড়া ৩০০ টাকা কেজির পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজিতে। ১৬০ টাকা কেজির ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়।
অর্থাৎ, বাজারে সব ধরনের মুরগির দামই এখন বেশ চড়া। তবে মুরগির দাম বেশি থাকলেও ডিমের দাম বেশ কমেছে। প্রতি ডজন লাল ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকা, সাদা ডিম ১০০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে রাজধানীর কল্যাণপুর নতুন বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘মুরগির দাম বৃদ্ধির জন্য কয়েকটি কারণ আছে। মূল কারণ হচ্ছে— ঈদের সময় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে— জ্বালানি তেলের সংকটের জন্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে। এ কারণেও দাম বাড়ছে। এ ছাড়া ঈদের সময় পরিবহন সংকটের কারণে বাজারে মুরগির সবরাহও কমে গিয়েছিল, এর জন্যও দাম বেড়েছে মুরগির। আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মুরগির দাম কমে আসবে।’
এদিকে রোজার মধ্যেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও ঈদের মধ্যে দাম বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি হয়েছিল। এখন কেজিতে ৫ টাকা কমলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামেই।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।
সবজির দাম কিছুটা কমেছে
এদিকে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। দুই দিন আগেও যেসব সবজি কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকার নিচে মিলছিল না, সেগুলোর দাম এখন কিছুটা কমতির দিকে। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে।
দুই দিন আগেও ৬০ টাকা কেজি দরের শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। ৮০ টাকা কেজির টমেটো নেমে এসেছে ৪০ টাকায়। ১২০ টাকা কেজির কাঁচামরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। দেশি শিম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।
এ ছাড়া বেগুনের দাম ৮০ টাকা কেজি, পটোল, করলা ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আগে ৮০ টাকা কেজির গাজর এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। ধুন্দল, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।
অন্যদিকে, কাঁচা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি দরে। জালি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং লাউ ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে। ১৬০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরের শজনে ডাঁটার দাম কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে শজনে ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।
সবজি বিক্রেতারা বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ এখন স্বাভাবিক। পাইকারিতে দাম কম থাকায় খুচরা বাজারেও দাম কিছুটা কমেছে। তবে সরবরাহ কমে গেলে আবারও দাম বাড়তে পারে।
মাছের বাজারে হেরফের নেই
মাছের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। পোয়া মাছ ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০, পাঙ্গাশ ২৪০ থেকে ২৬০ এবং রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট গলদা চিংড়ি ১ হাজার টাকা এবং বড় গলদা ১ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া টেংরা মাছ ৭০০ টাকা এবং পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারে সরু চাল ৭৫-৮০ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা এবং গুটি চাল ৫৫ টাকা কেজি। মসুর ডাল ১০০—১৮০ টাকা, মুগ ডাল ১৭০ টাকা, মটর ডাল ১৬০ টাকা এবং ছোলার ডাল ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এফআর