মার্কিন সাম্রাজ্য কি ক্ষয়ে যাচ্ছে

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন সাম্রাজ্যের শক্তি ক্ষয়ে যাচ্ছে এবং ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ সেই পতনকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে— এমনটাই বলছেন ইতিহাসবিদ আলফ্রেড

2026-03-27T05:06:44+00:00
2026-03-27T05:06:44+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মার্কিন সাম্রাজ্য কি ক্ষয়ে যাচ্ছে
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৫:০৬ এএম 
বৃহস্পতিবার শহিদদের জানাজায় অংশ নিচ্ছেন শোকাহত ইরানিরা। ছবি : মিডল ইস্ট আই
মার্কিন সাম্রাজ্যের শক্তি ক্ষয়ে যাচ্ছে এবং ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ সেই পতনকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে— এমনটাই বলছেন ইতিহাসবিদ আলফ্রেড ম্যাককয়। 

বিকল্প ধারার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেমোক্র্যাসি নাউ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে অতিরিক্ত সামরিক আগ্রাসন, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন— সব মিলিয়ে একটি ‘পতনশীল সাম্রাজ্যের’ লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইতিহাসবিদ আলফ্রেড ম্যাককয়ের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘পতনশীল সাম্রাজ্য’ হিসেবে দেখা জরুরি। তার ভাষায়, ইতিহাসের গত একশ বছরের অভিজ্ঞতা দেখলে বোঝা যায় যেকোনো সাম্রাজ্য যখন পতনের দিকে যায়, তখন কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ বারবার ফিরে আসে। আর যুক্তরাষ্ট্র এখন ঠিক সেই পথেই হাঁটছে।

ম্যাককয় বলেন, পতনশীল সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘অতিরিক্ত সামরিক হস্তক্ষেপ’, যাকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এক ধরনের ক্ষুদ্র কিন্তু ঘনঘন যুদ্ধনীতির মাধ্যমে। 

তার মতে, শক্তি হারাতে থাকা সাম্রাজ্যগুলো প্রায়ই মনে করে যে আরও বেশি যুদ্ধ, আরও বেশি সামরিক উপস্থিতি তাদের হারানো প্রভাব ফিরিয়ে আনতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি উল্টো ফল দেয়, এতে পতন আরও দ্রুত হয়।

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপকে তিনি এই ঐতিহাসিক ধারা দিয়েই ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, এই যুদ্ধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি সেই বৃহত্তর প্রবণতার অংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তার কমে আসা বৈশ্বিক প্রভাব ধরে রাখতে সামরিক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করছে।

ম্যাককয় আরও বলেন, ইতিহাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন কিংবা স্প্যানিশ সাম্রাজ্য— সবগুলোর ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, পতনের সময় তারা বিদেশে যুদ্ধ বাড়িয়েছে। কিন্তু সেই যুদ্ধ কখনো তাদের শক্তি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। বরং অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক বিভাজন এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়িয়েছে। 

তার বিশ্লেষণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো— অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। ম্যাককয় বলেন, পতনশীল সাম্রাজ্যের ভেতরে রাজনৈতিক কাঠামো ক্রমশ অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক হয়ে ওঠে। সিদ্ধান্তগুলো হয়ে পড়ে বিচ্ছিন্ন, অসংলগ্ন এবং কখনো কখনো বিপরীতমুখী।

তার ভাষায়, ‘রাজনীতি ক্রমশ বিকৃত ও অযৌক্তিক হয়ে ওঠে’ যা একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়।


ম্যাককয় মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রেও সেই লক্ষণগুলো স্পষ্ট। অভ্যন্তরীণ বিভাজন, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি আস্থাহীনতা— এসবই একটি বৃহত্তর পতনের প্রক্রিয়ার অংশ। ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গে ম্যাককয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে। 

তার মতে, এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে জড়িত থেকেছে, কিন্তু তাতে স্থিতিশীলতা আসেনি। বরং নতুন নতুন সংঘাত তৈরি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই কৌশলগত ঝুঁকি বাড়িয়েছে। 

তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান এখন এমন এক অবস্থানে রয়েছে যেখানে সে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হুরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ পথ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তাকে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ম্যাককয় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি এখনও বড় হলেও, সেটি আর আগের মতো কার্যকর নয়। কারণ বিশ্ব এখন একমুখী নয়, বরং বহুমুখী শক্তির ভারসাম্যের দিকে এগোচ্ছে।

ম্যাককয়ের মতে, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য কমে আসছে। চীনসহ অন্যান্য শক্তির উত্থান, আঞ্চলিক জোটের বিস্তার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন বাস্তবতা— সব মিলিয়ে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। এই পরিবর্তনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যদি পুরোনো সাম্রাজ্যবাদী কৌশলেই আটকে থাকে, তা হলে তার পতন আরও ত্বরান্বিত হবে, এমন সতর্কবার্তাও দেন ম্যাককয়। 

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে দেখা গেছে, কোনো সাম্রাজ্য হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে না। বরং একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তার শক্তি ক্ষয় হয়। সেই প্রক্রিয়া এক-দুই বছরে শেষ হয় না, বরং দশকজুড়ে চলতে পারে। 

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাবে। আগামী এক-দুই দশক ধরে এই পতনের প্রক্রিয়া চলতে পারে, যতক্ষণ না তার বৈশ্বিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

এফআর


  বিষয়:   মার্কিন  সাম্রাজ্য  ক্ষয়  ইরান  ইসরায়েল  যুদ্ধ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: