খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে বিভিন্ন যানবাহনে তেল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পরিবহন চালকদের বিরুদ্ধে। কোনো উপায় না পেয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছে যাত্রীরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে দীঘিনালা স্টেশন এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, সিএনজি, মাহিন্দ্র ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে চালকরা। গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হয়ে যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিয়েই যাতায়াত করছে। এ অবস্থায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী যাত্রীরা।
কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে সিএনজি ও মাহিন্দ্রের ভাড়া যেখানে ৭০-৮০ টাকা, সেখানে বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
এ ছাড়া একটি গাড়ি রিজার্ভের জন্য চাওয়া হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। পিকআপেও ৭০ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
উপজেলার কবাখালী এলাকার মো. আশিক বলেন, ঈদের ছুটি শেষে চট্টগ্রামে কর্মস্থলে ফিরছি। ৮০ টাকার ভাড়া ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে। করার কিছুই, নেই যেতে হবে, চালকরা তেলের অজুহাত দেখাচ্ছে।
থানাবাজার এলাকার মো. হাসান অভিযোগ করে বলেন, খাগড়াছড়ি যেতে আমার কাছ থেকে ৮০ টাকার ভাড়া ১৫০ টাকা চাওয়া হয়েছে। আমি ১২০ টাকা দিয়েছি, তবে অন্যদের কাছে থেকে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে আমরা এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাব।
এ বিষয়ে যানবাহন চালকদের দাবি, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালাতে পারছেন না। তেল সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে কিছুটা ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে দীঘিনালা মাহিন্দ্র সমিতির লাইনম্যান বাবুধন চাকমা বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া বাড়াইনি। কিন্তু চালকরা সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছে না, তাই তারা কিছুটা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে।
অন্যদিকে, সিএনজি মালিক সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে জানার জন্য দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
এফআর