ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এরন পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে, বিমান জ্বালানি ও ডিজেল রফতানিতে ‘উইন্ডফল ট্যাক্স’ আরোপ করেছে ভারত।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে। এর অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া।
জানা গেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ পরিবহন করা হয়ে থাকে।
সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, পেট্রোলের ওপর বিশেষ আবগারি শুল্ক ১৩ রুপি থেকে কমিয়ে ৩ রুপি প্রতি লিটার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ডিজেলের ওপর শুল্ক ১০ রুপি থেকে শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে।
ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে তেল কোম্পানিগুলোর ক্ষতি কমাতে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোলে প্রায় ২৪ রুপি এবং ডিজেলে ৩০ রুপি ক্ষতি হচ্ছিল।
অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরা জানান, এই সিদ্ধান্তে সরকারের বছরে প্রায় ১.৫৫ ট্রিলিয়ন রুপির রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে। তবে এর ফলে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর ক্ষতির ৩০-৪০ শতাংশ কমে আসবে।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি হতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি সাধারণ জনগণ যাতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতে জ্বালানির দাম তাত্ত্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণমুক্ত হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো বাজারে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও অনেক সময় সরকার বা কোম্পানিগুলো সেই চাপ নিজেরাই বহন করে, যাতে ভোক্তাদের ওপর প্রভাব কম পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিকে ডিজেল রফতানিতে লিটারপ্রতি ২১.৫ রুপি এবং বিমান জ্বালানি রফতানিতে ২৯.৫ রুপি কর আরোপ করা হয়েছে। দেশটিতে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ সবচেয়ে বড় জ্বালানি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান।
/ইউএমএইচ