গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আটক মো. মিজানুর রহমান মিজান পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমীর এবং উপজেলা পেশাজীবী বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোররাতে পৌর শহরের গৃধারীপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাবা গোলাম মোস্তফাকেও পাশের ঘোড়াঘাট এলাকা থেকে আটক করা হলেও পরে সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র নিশ্চিত করেছে, আটক মিজানুর রহমানকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে- এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
এদিকে দলীয় সূত্রের দাবি, গত ২৫ মার্চ পলাশবাড়ী থানায় ঘটে যাওয়া একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’র জের ধরে তাকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে মিজানুর রহমানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে উপজেলা জামায়াত। দলটির নেতারা তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে দেখলেও, অন্যদিকে দলীয় নেতাকর্মীরা এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৫ মার্চ রাতে পলাশবাড়ী থানা প্রাঙ্গণে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার একটি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উপজেলা যুব জামায়াতের এক নেতাসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে ওসির সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা থানার ভেতরেই হামলা চালান এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তারা চিকিৎসা নেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা এক সংবাদকর্মীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনো নিশ্চিত অবস্থান জানাতে পারেনি জামায়াত। তবে ফুটেজে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব।
এএডি/