মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরে বিয়ের বিপরীতে বিচ্ছেদের যে পরিসংখ্যান উঠে এসেছে, তাতে স্থানীয় সচেতন মহলে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিবচর উপজেলায় মোট ২ হাজার ৪৩১টি বিয়ে নিবন্ধিত হয়েছে। এর বিপরীতে বিচ্ছেদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৭টি। অর্থাৎ প্রতি দুটি বিয়ের বিপরীতে গড়ে প্রায় একটি বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরকীয়া সম্পর্ক, দাম্পত্য জীবনে বোঝাপড়ার অভাব, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং দীর্ঘ প্রবাস জীবনের প্রভাব— এসব কারণেই ভাঙছে সংসার।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতায়ও উঠে এসেছে দাম্পত্য ভাঙনের নানা দিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, বিয়ের এক বছরের মধ্যেই স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তাদের দাম্পত্য জীবন ভেঙে যায়।
এক প্রবাসী বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে স্ত্রীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, স্ত্রীর অন্য সম্পর্কে জড়িত। বিষয়টির প্রমাণ পেয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন।
আরেক প্রবাসী করিম জানান, জীবিকার তাগিদে বিদেশে থেকে নিয়মিত সংসারে অর্থ পাঠালেও কয়েক বছর পর জানতে পারেন, তার স্ত্রী অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে সন্তানদের নিয়েই জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারদের মতে, বর্তমানে অধিকাংশ বিচ্ছেদের পেছনে পরকীয়া অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া দাম্পত্য কলহ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং ছোটোখাটো বিরোধের সমাধান না করাও বিচ্ছেদ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে।
তারা আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষ থেকে যথাযথ মধ্যস্থতা না হওয়ায় সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে সামান্য ভুল বোঝাবুঝিও বড় সংকটে রূপ নেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম্পত্য জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং পারিবারিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে এই বিচ্ছেদের হার অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এফআর