ইরানের ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন এক মাসে গড়াল। ইসরায়েল এরই মধ্যে ভয়াবহ সংকটের মুখে পরেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ত্রিমুখী এই হামলা ঠেকাতে রীতিমতো বেকায়দা পড়েছে ইসরাইলের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
আলজাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে বলেছেন, ‘ইসরায়েলি নেতাদের বক্তব্য শুনলে আপনার মনে হতে পারে যে দেশটি এই যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করছেন, ইসরাইল সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং ইরান কোণঠাসা হয়ে পড়েছে; সামনে আরও বড় আঘাত আসছে।’
তবে ইসরাইলের বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করার সুযোগটি হাতছাড়া করছে না। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর কাছে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।
যুদ্ধ শুরুর এক মাস পার হয়ে গেলেও ইসরায়েল এখনো ইরানি হামলার হুমকির মুখে রয়েছে। এর সাথে হিজবুল্লাহর রকেট হামলাও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, হুথিরা এখানে যুক্ত হওয়ায়র পর থেকে তৃতীয় একটি ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ইসরায়েল নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং পদ্ধতি আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ সব দিক থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও বহুমুখী হুমকি মোকাবিলা করতে গিয়ে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ক্রমাগত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত বিপজ্জনক হারে কমে আসছে। ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের দিক থেকে ধেয়ে আসা শত শত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েলকে তাদের সবচেয়ে উন্নত ‘অ্যারো’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ সিস্টেম ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এতে আরও জানানো হয়েছে, একেকটি ‘অ্যারো’ ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের পেছনে খরচ হয় কয়েক লাখ ডলার। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মিসাইল খরচ হওয়ায় ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারীরা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
সময়ের আলো/কেএইচও