জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরের মধ্যস্থতায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে ঠিকানা পরিবহনের ৬ বাস ছেড়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, টিউশন থেকে ফেরার পথে চলন্ত বাস থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ‘ঠিকানা পরিবহন’-এর ছয়টি বাস ১৬ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ঠিকানা পরিবহনের মালিকপক্ষ।
ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরা, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব, জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, জাবি ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ সময় মালিকপক্ষ আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ব্যয় ও একমাসের খরচসহ মোট ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আল মামুন, তিনি সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের ছাত্র।
তিনি জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশমাইল এলাকা থেকে ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। ডেইরি গেটে নামতে চাইলে বাসের হেলপার তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং জাবির শিক্ষার্থীদের বাসে না তোলার কথা বলে।
পরে আরেকজন হেলপার তাকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, এতে তার হাঁটু, হাতে এবং মাথায় আঘাত লাগে।
ঠিকানা পরিবহনের ম্যানেজার মো. কবির হোসাইন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এইরকম ঘটনা আমাদের পরিবহন মালিকদের জন্য কাঙ্খিত নয়, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসহ খরচের জন্য ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি।
ভবিষ্যতে যাতে এইরকম ঘটনা না হয়, আমরা সকল পরিবহন মালিকদের সাথে আলোচনা করে একটি সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করবো।
প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, মালিকপক্ষ তাদের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দিয়েছে। ভবিষ্যতে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছে।
এতে শিক্ষার্থীর মেডিকেল খরচ বাবদ (এক্সরে, সিটিস্ক্যান ও ঔষধসহ) ১২ হাজার টাকা এবং একমাসের চলার খরচ ১৩ হাজার টাকা যেহেতু ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী টিউশন করে নিজের খরচ বহন করতো।
তিনি আরো জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যেসব পরিবহনগুলো চলাচল করছে তাদের মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করে এর একটি স্থায়ী সমাধান করা হবে।
সময়ের আলো/এআর