ঝালকাঠিসহ সারাদেশে ৩৮৪৯ চাঁদাবাজের তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। যার মধ্যে ঝালকাঠির ৬১ জন রয়েছে বলে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে।
এনিয়ে জেলা জুড়ে সরকারি, বিরোধীদল ও জনসাধারণের মধ্যে হৈ চৈ শুরু হয়েছে। ৬১ জনের মধ্যে জেলার বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম রয়েছে বলে কানাঘুষা চলছে।
এছাড়াও সুবিধাবাদী একশ্রেণির লোকও রয়েছে যারা সব দলেই পরিবেশ মানিয়ে বিরাজ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।
চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য রোধ এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে প্রাথমিকভাবে এ তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সড়ক, হাটবাজার, বাস-টেম্পো স্ট্যান্ড, নৌঘাট, মাছ বাজার, ভ্রাম্যমাণ কাঁচাবাজার, সরকারি লিজকৃত জমিতে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পাইকারি আড়ৎ এবং বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া, তালা ঝুলিয়ে দেওয়া কিংবা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটায় তারা।
পুলিশের তালিকাভুক্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত—এমন অভিযোগ রয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেদের পরিচয়ও বদলে ফেলে। একপর্যায়ে তারা নতুন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং চাঁদা আদায় করতে শুরু করে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যদের কাছেও পৌঁছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্র প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
গত ৪ মার্চও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তার নির্দেশনার পরই মাঠপর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের একটি পৃথক স্বচ্ছ তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সরকারি গোয়েন্দা বিভাগের একাধিকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, চাঁদাবাজদের তালিকা সম্পন্ন হয়েছে। পুরোনো চাঁদাবাজরা কোথায় আছে সেটিও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তালিকাভুক্তদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এরপূর্বে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে ঝালকাঠির দু’টি আসনের এমপিদ্বয় পৃথকভাবে চাঁদাবাজি বন্ধে মাইকিং করেন। সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি-নলছিটি) আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো । এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে এ ঘোষণা প্রচার করা হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময়েও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নির্দেশনা দিয়েছেন তারা। তবে ঘোষণা এবং নির্দেশনায় টেন্ডার সিন্ডিকেট বা টেন্ডারবাজির বিষয়ে কোনো কথা বলা হয়নি।
মাইকিংয়ে বিশেষ সতর্ক বার্তা দিয়ে বলা হয়, ঝালকাঠি জেলায় কোনো চাঁদাবাজের ঠাঁই নাই। মানুষকে জিম্মি করে আমার অথবা দলীয় নাম ব্যবহার করে ফায়দা লুটতে চাইলে তাকে কঠোর হাতে দমন করা হবে।
অন্যায়কারী যেই হোক তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি রইল চরম হুঁশিয়ারি। এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসা ও সেবন সহ্য করা হবে না।
সময়ের আলো/এআর