দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন উৎসব ‘বারুনী স্নান’ ও মেলা সাড়ম্বরে উদযাপিত হচ্ছে। উপজেলার ৮ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের মোগড়পাড়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ এবং ইছামতি ও ভেলামতি নদীর সংযোগস্থলে এই মেলা ও স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছর চৈত্র মাসের নির্দিষ্ট তিথিতে পাপ মোচনের আশায় এখানে সমবেত হন হাজারো পুণ্যার্থী।
এদিন ভোরবেলা থেকেই নদীর পবিত্র জলে স্নান করার মাধ্যমে শুরু হয় মূল আচার। পুণ্যার্থীরা স্নান শেষে বিশেষ পূজা-পার্বণ ও প্রার্থনায় অংশ নেন।
সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক বিশাল সমাহার। মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসন থেকে শুরু করে কাঠের আসবাবপত্র, শীতল পাটি ও কামারের তৈরি দা-বটি—সবই মিলছে এই মেলায়। শিশুদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে মাটির টমটম গাড়ি ও রঙিন বেলুন।
এছাড়াও আগতদের বিনোদনের জন্য মেলাতে বসানো হয়েছে নাগরদোলা, ঘূর্ণিপাক, ঐতিহ্যবাহী সার্কাস, কচি-কাচাদের জন্য বিনোদনের জিনিসপত্র, ঐতিহ্যবাহী চিনি ও গুড়ের সাঁস এবং মিষ্টি-জিলাপির দোকান। মেলাতে বসেছে হলুদ, রসুনের হাট।
মেলায় আসা দর্শনার্থী শ্রীমতী আদুরী চন্দ্র রবিদাস বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলাতে এসেছি। আমরা এখানে স্লান করে পূজা করি এবং ভগবানের কাছে পাপ মোচনের জন্য প্রার্থনা করি।
মেলায় আসা জাকির হোসেন বলেন, অনেক দিন থেকে দেখে আসছি এই মেলা। এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) মানুষের পাশাপাশি মুসলমান ও অন্য ধর্মের বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষের ঢল নেমে যায়। আজ মেলায় এসে ভালো লাগছে। এখানে এসে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন জিনিস দেখলাম এবং বাড়ির জন্য হলুদ ও রসুন কিনলাম। এছাড়া ছোট বাচ্চাদের জন্য টমটম গাড়ি ও মাটির তৈরি কিছু জিনিসপত্র নিয়েছি।
এদিকে, ঐতিহ্যবাহী এই বারুনী বা বান্নী মেলা নিরবচ্ছিন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। মেলা প্রাঙ্গণে ও আশপাশের এলাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে পুলিশের নজরদারি। মেলায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকও রয়েছে।
এফআর