ঈদুল ফিতরের ১০ দিনের ছুটি শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে। গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে শ্রমজীবী মানুষ কর্মস্থলে ফিরে আসায় রোববার সকাল থেকেই সরব হয়ে উঠেছে কারখানাগুলো।
স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা, পুরোদমে শুরু হয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম। দীর্ঘ ঈদ ছুটি শেষে গত শুক্রবার থেকেই প্রাণ ফিরতে শুরু করে গাজীপুর। এরই মধ্যে খুলেছে সব সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি অফিস। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষ গত দুদিন ধরে ফিরতে শুরু করায় বাসস্ট্যান্ড এবং স্টপেজগুলোতে লক্ষ্য করা যায় উপচে পড়া ভিড়।
গাজীপুরের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে গত কয়েকদিনের শুনশান নীরবতা ভেঙে গণপরিবহনের সংখ্যা বেড়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) টঙ্গীর স্টেশন রোড, চেরাগ আলী, কলেজ গেট বোর্ডবাজার, বাসন সড়ক, চান্দনা চৌরাস্তা ও কোনাবাড়ী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই অফিসগামী যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গত কয়েক দিনের যাত্রী খরা কাটিয়ে ওঠায় পরিবহন শ্রমিকদের মাঝেও স্বস্তি ফিরেছে।
এ ছাড়া গাজীপুর জেলা প্রশাসন এলাকায় কর্মজীবী মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে অফিস পাড়া। দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরেছেন সবাই।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে আজ (রোববার) থেকে গাজীপুরে শতভাগ কারখানা চালু হয়েছে। কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে মোট ২ হাজার ৭৫৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ১০০টি পোশাক কারখানা আজ (রোববার) খুলেছে। এসব কারখানায় প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক কর্মরত।
অধিকাংশ কারখানায় টানা ১০ দিনের ছুটি ছিল। ছুটি শেষে এসব কারখানা পুরোদমে চালু হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানার সামনে শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থলে পৌঁছান। কাজের পরিবেশে ফিরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা।
তারা জানান, স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য বেতন-ভাতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তারা আরও উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে পারবেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও শ্রমবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও কর্মপরিবেশের বিভিন্ন দিক জোরদার করা হয়েছে। শ্রমিক উপস্থিতি সন্তোষজনক।
বোর্ডবাজার এলাকার একটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে যাতে শ্রমিকরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। ঈদ-পরবর্তী এই স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, মহাসড়কে যানজট নিরসনে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। শেষ মুহূর্তে কর্মস্থলে ফিরছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। রোববার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ফিরতি যাত্রা অব্যাহত ছিল। এদিন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তায় দেখা যায় গাড়ির ধীরগতি।
এ ছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় ও আশপাশের এলাকায় যানবাহনের চাপ ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
হাইওয়ে পুলিশ বলছে, শনিবার রাতে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ আরও অনেক যাত্রী গাজীপুরে ফিরেছেন। এ জন্য মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ছিল। তবে দুপুরের পর মহাসড়কে গাড়ি চলেছে স্বাভাবিক গতিতে। যানজট নিরসনে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৩০ ভাগ কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। রোববার থেকে শতভাগ কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। কারখানা এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শ্রমিকরা কাজে ফিরছেন।
বোর্ডবাজার এলাকার পরিবহন শ্রমিক রাশেদুল ইসলাম বলেন, পরিবার নিয়ে ঈদ কাটিয়ে গতকাল (শনিবার) ফিরেছি। আজ (রোববার) সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি।
এফআর