পশ্চিমবঙ্গের ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় মারা গেছেন। রাহুলের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে টালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। সহশিল্পী থেকে শুরু করে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা শোক প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে তার মৃত্যুর ব্যাপারে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন সন্ধ্যায় কলকাতা-মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আইপিএল নিয়ে যখন সবাই অপেক্ষায়, ঠিক তখনই মৃত্যুর খবর এসেছে অভিনেতার। এদিন পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার সীমান্তবর্তী তালসারি সমুদ্রসৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন রাহুল। এ সময় সমুদ্রের নিচে তলিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
অনেকে দাবি করেছেন―তখন শুটিং শেষ হয়েছিল। ইউনিটের লোকজনের সামনেই তলিয়ে যান তিনি।
এখানে শনিবারও শুটিং করেছি আমরা মন্তব্য করে ধারাবাহিকের পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল বলেন, আজ একটা শট ছিল তালসারিতে। গোড়ালি ডুবে যাওয়া পরিমাণ পানিতে দাঁড়িয়েছিল শ্বেতা ও রাহুল। তারা নিজেদের মধ্যে পানি ছোড়াছুড়ি করছিল, লুকোচুরি খেলছিল। আর আমরা পেছন দিক থেকে ক্যামেরা ধরেছিলাম। সেটি করতে করতে রাহুল শ্বেতার হাত ধরে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।
শুভাশিস বলেন, প্রায় হাঁটু পর্যন্ত পানিতে যাওয়ার পর কিছুটা সমতা হারিয়ে ফেলে। আমরা চিৎকার করে দূরে যেতে নিষেধ করি। ততক্ষণে রাহুলের গলা পর্যন্ত পানি, হাবুডুবু খাওয়ার মতো অবস্থা।
তিনি আরও বলেন, সবকিছু ফেলে ইউনিটের ১০-১২ জন তার দিকে এগিয়ে যাই। মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যেতে থাকে সে। সম্ভবত অনেক পানিও খেয়ে ফেলেছিল। আশপাশে থাকা নৌকাগুলো থেকে দড়ি ফেলে, ইউনিটের সবাই তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে তুলে আনেন রাহুলকে। কিন্তু ওই সময়ও জ্ঞান ছিল রাহুলের। এরপর গাড়িতে করে দ্রুত দিঘা মহকুমা হসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসকরা মৃত ঘাষণা করেন রাহুলকে।
উল্লেখ্য, দুই দশকের বেশি সময় ধরে টালিউডে কাজ করছেন রাহুল। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, এমনকি ওয়েবেও ছিল বিচরণ। বর্তমানে তাকে দর্শকরা ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকে দেখতে পাচ্ছিলেন। এতে তার এবং শ্বেতা মিশ্রর রসায়ন দর্শকদের নজর কেড়েছিল। সম্প্রতিই হইচই প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ঠাকুমার ঝুলি’তে দেখা গেছে তাকে। সেখানে তিনি পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম রাহুলের। অভিনয় যাত্রা শুরু করেন বাবার সঙ্গে রাজ দর্শন নামের একটি নাটকে, বিজয়গড় থিয়েটার দলের মাধ্যমে। এরপর থেকে তিনি প্রায় ৪৫০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন।
এরপর বড়পর্দায় ডেবিউ হয় ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার মাধ্যমে। যা মুক্তির পরই দারুণ সাফল্য পায়। তারপর থেকে বাণিজ্যিক ও মূলধারার বিভিন্ন সিনেমায় কাজ করে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন এ অভিনেতা।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘জ্যাকপট’, ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’, ‘কাগজের বউ’ ও ‘আকাশ অংশত মেঘলা’।
/ইউএমএইচ