দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক মাদরাসা শিক্ষককে আটক করেছে গ্রামবাসী। পরে খবর পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এসব ঘটনায় সোমবার (৩০ মার্চ) মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি মো. এনামুল হক বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
এর আগে, গতকাল রোববার রাতে উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের জুতমন বাঁশমুড়ি দারুলউলুম হাফেজিয়া এতিমখানা মাদরাসা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি উপজেলার কড়ই কদুপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই মাদ্রাসায় দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ছাত্ররা তাদের ওপর চলা পৈশাচিক নির্যাতনের কথা মাদরাসা পরিচালনা কমিটির কাছে প্রকাশ করলে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
ভুক্তভোগী এক ছাত্র জানায়, গত রমজান মাসে হুজুর তাকে শরীরে মলম মালিশের কথা বলে ডেকে নেন এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
অন্য এক ছাত্র অভিযোগ করে বলেন, তাকে দিয়ে জোরপূর্বক হস্তমৈথুন করিয়ে নিতেন ওই শিক্ষক। প্রতিবাদ করলেই জুটতো কঠোর শাস্তি আর প্রাণনাশের হুমকি।
মাদরাসার সহসভাপতি মো. এনামুল হক বলেন, গতকাল (রোববার) রাত দশটার দিকে গ্রামের গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে আমি মাদরাসায় বসেছিলাম। মাদ্রাসার ছাত্রদের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন জন প্রশ্ন করে এবং আলোচনা করে। এক পর্যায়ে শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ছাত্রদের অভিযোগ স্বীকার করে নেয়। তখন উপস্থিত লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে কিল-ঘুষি মারে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি দেখে আমি পুলিশকে খবর দেই। পরে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে এসে মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে থানায় যায়।
এ বিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, রাতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগটি মুঠোফোনে জানতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞেসায় অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
এফআর