তীব্র গরমে কদর বেড়েছে তালশাঁসের

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে পাবনার বেড়া উপজেলার সর্বত্র কচি তালশাঁসের কদর ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গরমের স্বস্তি মিলবে— এমন আশায়

2026-06-04T11:14:12+00:00
2026-06-04T11:14:12+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
তীব্র গরমে কদর বেড়েছে তালশাঁসের
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:১৪ এএম   (ভিজিট : ১২)
পাবনার বেড়া উপজেলার সর্বত্র কচি তালশাঁসের কদর ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ছবি : সময়ের আলো
কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে পাবনার বেড়া উপজেলার সর্বত্র কচি তালশাঁসের কদর ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গরমের স্বস্তি মিলবে— এমন আশায় উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে এখন তালশাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে। কচি তালশাঁসের রসালো অংশ শরীরের পানিশূন্যতা দূর করায় ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের কাছে এটি এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকা ও হাটবাজারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়িতে করে ঘুরে ঘুরে তালশাঁস বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। আবার কেউ কেউ প্রখর রোদে রাস্তার পাশে ছাতা টাঙিয়েও বসছেন। তীব্র রোদ আর তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এর চাহিদাও। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে এই বেচাকেনা। গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে অস্থির পথচারীদের এক মুহূর্তের জন্য হলেও স্বস্তি এনে দিচ্ছে কচি তালের শাঁস। অনেকে আবার পরিবারের জন্য বাড়িতেও নিয়ে যাচ্ছেন এই ফল।

নাকালিয়া বাজারের তালশাঁস বিক্রেতা উজ্জ্বল জানান, প্রতি বছর এই মৌসুমে তালের শাঁস বিক্রি করে তিনি সংসার চালান। গ্রাম অঞ্চল ঘুরে ঘুরে তালগাছ মালিকদের কাছ থেকে পাইকারি দরে তাল কিনে আনেন। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় দুই মাস চলে এই ব্যবসা। তিনি প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ পিস তাল বিক্রি করেন। আকারভেদে প্রতিটি তালশাঁস ৫ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি করে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লাভ হয় তার। 

নতুন পেচাকোলা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আকাশ জানান, তিনি উপজেলার নাকালিয়া বাজারে এবং বিকেলে পেচাকোলা যমুনা নদীর ঘাটে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়িতে করে তালশাঁস বিক্রি করেন। প্রকারভেদে প্রতিটি তাল ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করে দুই বেলা মিলিয়ে তার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। বছরের অন্য সময়ে ভ্যান চালিয়ে বা অন্য ফল বিক্রি করলেও এই সময়ে তালশাঁস বিক্রি করেই তার সংসার চলে।


তালশাঁসের পুষ্টি গুণাগুণ সম্পর্কে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা সুলতানা নীলা জানান, ‘তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ফল। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ দ্রুত পানিশূন্যতা দূর করে। এছাড়া এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ, বি-কমপ্লেক্সসহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তালে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তশূন্যতা দূর করে এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি ও মুখের রুচি বাড়াতে সাহায্য করে।’

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে আমাদের বেড়া উপজেলায় কোনো তালবাগান না থাকলেও বজ্রপাত রোধে তালগাছ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে এটি মাটি ক্ষয় রোধেও ভূমিকা রাখে। ফল হিসেবেও তালের পুষ্টিগুণ অনেক। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবছরই বিভিন্ন প্রণোদনা ও প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের তালের চারা রোপণে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি।’

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   তীব্র গরম  কদর বেড়েছে  তালশাঁস  পাবনা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: