কালবৈশাখী ঝড়ে মহাসড়কের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে মহাসড়কের তাড়াশ উপজেলার হাটিকুমরুল থেকে নাটোরের কাছিকাটা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এই রুটে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকে থাকায় চরম চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) রাত ৮টার দিকে তাড়াশ ও আশেপাশের এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
তাড়াশের খালকুলা এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান রাঙ্গা জানান, ‘গত রাত থেকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে জ্যাম লেগে আছে। মহাসড়কের পাশে আমাদের বাড়ি হওয়ায় আমরা আটকে থাকা দূরপাল্লার যাত্রীদের সাধ্যমতো বিভিন্ন সহযোগিতা করছি।’
পণ্যবাহী ট্রাক চালক আয়নাল হক তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত রাত থেকে একই জায়গায় গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। প্রচণ্ড গরম আর যানজটে খুব কষ্টের মধ্যে সময় পার করছি।’
রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী বাসযাত্রী আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল বিকেলে রাজশাহী থেকে বাসে উঠেছি। রাত ৮টার দিকে তাড়াশের মহিষলুটি এলাকায় জ্যামে পড়ে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত একই জায়গায় আটকে আছি। ঢাকা পৌঁছাতে আরও কত সময় লাগবে আল্লাহই জানেন।’
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘বুধবার রাতে ঝড়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গাছ ভেঙে পড়লে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাছগুলো সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে। তবে এর মধ্যেই মহাসড়কের ওপর দুটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় এবং দীর্ঘ সময় গাড়ি থমকে থাকায় এই বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়।’
তিনি আরও জানান, পুলিশ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে গাড়িগুলো বেশ ধীরগতিতে হলেও চলাচল শুরু করেছে। দ্রুতই যানজট পুরোপুরি কেটে যাবে।
সময়ের আলো/জেডি