ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ মন্দিরের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গিলাতলী জগন্নাথ মন্দিরের পরিচালনা কমিটির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি

2026-03-30T20:49:15+00:00
2026-03-30T20:49:15+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ মন্দিরের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম 
গিলাতলী জগন্নাথ মন্দির। ছবি : সময়ের আলো
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গিলাতলী জগন্নাথ মন্দিরের পরিচালনা কমিটির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা সমবায় অফিসার ইসমাইল তালুকদার। 

অভিযুক্তরা হলেন—মন্দির কমিটির সভাপতি হরিশচন্দ্র সেন, সাধারণ সম্পাদক পংকজ পাল, ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার, সদস্য মুক্তিপদ রায় ও মনজ পাল।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, মন্দিরের দিঘি ইজারা থেকে প্রাপ্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা, দিঘি থেকে কোটি টাকার মাটি বিক্রির অর্থ, প্রায় ১০ একর জমির ইজারা বাবদ আয়, আরও ২ একর বেদখল জমির আয় এবং ভক্তদের দান-অনুদানের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত ছাড়াই দিঘি খননের জন্য ২২ লাখ টাকা সদস্য মুক্তিপদ রায়কে দেওয়া হয়। পরে তিনি ওই দিঘি থেকে কোটি টাকা মূল্যের সিরামিকসের মাটি বিক্রি করেন। 

এছাড়া ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকারের বিরুদ্ধে তার প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগও উঠেছে। 

স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান কমিটি ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অন্তত এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তথ্য অধিকার আইনে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে কমিটির পক্ষ থেকে তথ্য না দিয়ে উল্টো হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানান, মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ করেই মুক্তিপদ রায় মাধবপুর পৌর এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টার ও ভবন নির্মাণ করেছেন এবং সভাপতি হরিশচন্দ্র সেন একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। 

একদিকে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ, অন্যদিকে অর্থকষ্টে ভুগছেন মন্দিরের সেবায়েতরা। মন্দিরের পুরোহিত শিমুল চক্রবর্তী বলেন, আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।


হিউম্যান রাইট কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায় বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা উচিত। 

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। 

তবে ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, কাগজে আমার স্বাক্ষর থাকলেও সিদ্ধান্তগুলো অন্যরা নিয়েছেন। কাগজে-কলমে আমার কোনো দায় নেই। বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। 

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম জানান, মন্দিরটি পরিচালনা কমিটির অধীনে। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে, এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এফআর


  বিষয়:   হবিগঞ্জ  মাধবপুর  ঐতিহ্যবাহী  জগন্নাথ মন্দির  কোটি  টাকা  আত্মসাত  অভিযোগ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: